নয়াদিল্লি, ২৭ মে: অত্যন্ত শক্তিশালী এস-৪০০ দূরপাল্লার বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (India-Russia S-400 Deal) আরও একটি ব্যাচ কেনার জন্য ভারত ও রাশিয়া আলোচনা করছে বলে রুশ সরকারি সংস্থা ফেডারেল সার্ভিস ফর মিলিটারি-টেকনিক্যাল কো-অপারেশন (এফএসভিটিএস) নিশ্চিত করেছে। এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন রাশিয়া ২০১৮ সালে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫.৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা) মূল্যের একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্পন্ন করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের মোট পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম পাওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে রাশিয়া ২০২৩ সালের মধ্যেই তিনটি সরবরাহ করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ জানিয়েছেন যে, সরবরাহ এখন আবার নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী চলছে। ভারত এই মাসে অবশিষ্ট দুটি সিস্টেমের মধ্যে একটি এবং এই বছরের নভেম্বরের মধ্যে শেষটি পাবে। এফএসভিটিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের আরও একটি চালান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাশিয়া এগুলো সরবরাহ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ভারতের বড় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা
এই বছরের মার্চ মাসে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আরও পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম, পরিবহন বিমান এবং দূরনিয়ন্ত্রিত আক্রমণকারী বিমান (ড্রোন) কেনার জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা) মূল্যের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই পদক্ষেপটি ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণ এবং পুরনো সোভিয়েত আমলের অস্ত্রের উপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার একটি অংশ।
অস্ত্র বাজারে ভারতের অবস্থান
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। গত পাঁচ বছরে, রাশিয়া থেকে শীর্ষ তিনটি অস্ত্র ক্রয়ের প্রায় অর্ধেকই একা ভারত থেকে হয়েছে।
তবে, ভারত এখন নিরাপত্তার জন্য কোনো একক দেশের ওপর নির্ভর করতে চায় না। এই কারণেই ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ফ্রান্স, ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির মতো দেশগুলির সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাড়িয়েছে। এছাড়াও, সরকার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে দেশের অভ্যন্তরে অস্ত্র উন্নয়ন এবং বিদেশী সংস্থাগুলির সাথে যৌথ উৎপাদনের উপর জোর দিচ্ছে।
এস-৪০০ এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য
ভারতীয় বিমান বাহিনী এর নাম দিয়েছে ‘সুদর্শন চক্র’। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একাই ভারতের শত্রুদের জন্য একটি নো-ফ্লাই জোন তৈরি করতে পারে।




















