‘ভোটের রাজনীতিতে আর নয়!’ চন্দননগরে হারের পর বড় সিদ্ধান্ত ইন্দ্রনীলের

হুগলি: বঙ্গে তৃণমূলের ডামাডোলের মাঝেই বড়সড় ঘোষণা করলেন চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তথ্য-সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। রাজ্য রাজনীতিতে সরকার বদলের পর থেকেই নিচুতলার কর্মীদের মনে প্রশ্ন ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
indranil sen announces no more election politics

হুগলি: বঙ্গে তৃণমূলের ডামাডোলের মাঝেই বড়সড় ঘোষণা করলেন চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তথ্য-সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। রাজ্য রাজনীতিতে সরকার বদলের পর থেকেই নিচুতলার কর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠছিল, দলের দাপুটে মন্ত্রী-নেতারা হঠাৎ কোথায় গেলেন? কেন তাঁদের আর রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না? সেই জল্পনার আবহেই এবার নীরবতা ভাঙলেন ইন্দ্রনীল। একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আর কোনওদিন ভোটের ময়দানে লড়াই করবেন না তিনি। চন্দননগরের নির্বাচনী ফলাফলের পর ভোট রাজনীতি নিয়ে তাঁর মোহভঙ্গ হয়েছে। (indranil sen announces no more election politics)

মমতার ‘গানের সাথি’ থেকে রাজনীতির আঙিনা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন, প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শুরু করে নবান্ন বা পুজো কার্নিভাল, তাঁর ঠিক পাশেই দেখা যেত ইন্দ্রনীল সেনকে। তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরেই গায়ক থেকে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। চন্দননগর আসন থেকে টানা দু’বার জিতে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। সরকারি মঞ্চে মমতা-ইন্দ্রনীলের দ্বৈতকণ্ঠে গান শোনার চেনা রেওয়াজ এবার অতীত। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে চন্দননগরে বিজেপির ঝড়ের সামনে টিকতে পারেননি তিনি।

   

শিল্পী হিসেবেই বাঁচতে চান ইন্দ্রনীল

ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে গায়ক-রাজনীতিবিদ বলেন, ‘‘আমি রাজনীতিতে রয়েছি, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই। দুটোর মধ্যে বড় তফাৎ আছে। বাংলার মানুষ আমায় গায়ক ও শিল্পী হিসেবেই চেনে। দল আমায় টিকিট দিয়ে সম্মান জানিয়েছিল, চন্দননগরের মানুষ বিধায়ক করেছিলেন, আমি তা উপভোগ করেছি। মানুষের জন্য আপ্রাণ চেষ্টাও করেছি, হয়তো কিছুটা পেরেছি, অনেকটা পারিনি। এর জন্য কাউকে দোষ দেব না।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘শিল্পীরা একটু বেশি আবেগপ্রবণ হন। চন্দননগরের এই ফলাফলের পর ভোট রাজনীতি নিয়ে আমার কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। অন্তত আজ পর্যন্ত আমার এটাই সিদ্ধান্ত যে আর ভোটে দাঁড়াব না, তবে কাল কী হবে জানি না।’’

দল ও নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ কেমন?

দলের দুর্দিনে বাকিদের মতো তিনি কি ‘বেসুরো’ গাইছেন? এই প্রশ্ন অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল। তিনি স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তবে আপাতত তিনি নিজের পুরনো জগত অর্থাৎ গান-বাজনা নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের সবার সঙ্গে তো বটেই, এমনকি ছোটবেলার যে বন্ধুরা অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাঁদের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ রয়েছে। এটা আসলে একটা আত্মিক ব্যাপার।”

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google