
কলকাতা: গত ১ এপ্রিল মালদার মোথাবাড়িতে SIR এ নাম কাটাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছিল উত্তেজনা (NIA Arrest)। এই কান্ডেই এবার NIA র জালে আরও ১৪ জন। সব মিলিয়ে এবার গ্রেফতারের সংখ্যা ছাড়াল ৬৮। রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন ঘিরে তখন তৈরী হয়েছে উত্তেজনার আবহ। এই আবহেই মালদার মোথাবাড়িতে ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে আটক করে রাখে স্থানীয় সংখ্যালঘুরা।
নিরাপত্তা বাহিনী গাড়ি নিয়ে উদ্ধার করতে গেলে দেওয়া হয় বাধা। সুপ্রিমকোর্ট এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত ভার সঁপে দেয় NIA র হাতে। গ্র্রেফতার হয় মূল চক্রী আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং স্থানীয় ISF নেতা এবং মোথাবাড়ি কেন্দ্রের ISF প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদরি এবং গোলাম রব্বানি যিনি মোথাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ISF সদস্য। এই ঘটনায় এবার NIA র হাতে আরও ১৪ জন গ্রেফতার হয়েছে। বিচারকদের প্রায় ৯ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলাটির জোরদার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA)।
আরও দেখুনঃ কাকলির পর সুখেন্দু! রোমান সাম্রাজ্যের উদাহরণ টেনে পোস্ট, ভাঙন বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরে
আজ, ২৬ মঙ্গলবার অর্থাৎ সোমবার গভীর রাতে কালিয়াচক ও মোথাবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় এনআইএ নতুন করে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে মোথাবাড়ি কাণ্ডে সর্বমোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে উত্তাল হয়ে ছিল রাজনৈতিক পরিবেশ। বিধানসভা নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার ঝাড়াই বাছাই করে বাদ গিয়েছিল এবং বিচারাধীন ছিল প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম।
সুপ্রিমকোর্ট প্রায় ৪৫ লক্ষ নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরে বিশেষ ট্রাইবুনাল তৈরী করার নির্দেশ দেয়। আর এই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে ছিলেন জেলার বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। গত ১ এপ্রিল হঠাৎ করেই ট্রাইব্যুনাল চলাকালীন এই ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় ৯ ঘন্টা আটক করা হয়। পরে নিরাপত্তাবাহিনী তাদের বের করে আনতে গেলে চলে বাঁশ লাঠি নিয়ে আক্রমণ।
রাতারাতি সুপ্র্রিমকোর্টে গড়ায় এই ঘটনা। সুপ্রিমকোর্ট এই ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করে প্রথমে তদন্তভার তুলে দেয় সিবিআইয়ের হাতে। পরে এই ঘটনায় সন্ত্রাস যোগের সন্দেহে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা NIA কে তদন্তের ভার দেওয়া হয়। NIA তদন্তে নেমেই হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে মোথাবাড়ির ISF প্রার্থী এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যকে। এর আগেই অবশ্য রাজ্য পুলিশের CID বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে মুলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলামকে।
মোফাক্কেরুল ইসলাম নিজেকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী বলতেন এবং মাঝে মাঝেই সীমান্তবর্তী রাজ্য গুলিতে যেতেন বলে জানা গিয়েছিল। তাই এই ঘটনার শিকড় অনেক দূর অবধি বিস্তৃত থাকতে পারে বলেই ধারণা করেন গোয়েন্দারা। আজ আরও ১৪ জনের গ্রেফতারি এই তদন্তের মোড় কোনদিকে ঘোরায় সেটাই দেখার।







