
কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের ছাড় নয়। (Hakimpur Border)এই আবহেই রাজ্যের জেলায় জেলায় তৈরী হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার। যেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হবে। তারপর তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে। এই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা সামনে আসতেই সীমান্ত অঞ্চল গুলিতে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে জাল নথি তৈরী করে যারা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল এখন তাদেরই দেশে ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। এই চিত্রই দেখা গিয়েছে হাকিমপুর সীমান্তে।
🚨 BIG! People have again gathered at the Hakimpur border area in North 24 Parganas, reportedly to RETURN to Bangladesh.
After holding centres opened and West Bengal CM Suvendu Adhikari took a tough stand on illegal immigrants, fresh gatherings have emerged. pic.twitter.com/aEDq8OBN5Z
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) May 26, 2026
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পার হয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য বহু মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়ার পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এবার সেই আতঙ্কেরই বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে হাকিমপুর সীমান্তে।
আরও দেখুনঃ শুভেন্দুর বৈঠকে কাকলি! পদ খোয়ানোর পরই কল্যাণীতে তৃণমূল সাংসদ, তীব্র দলবদলের জল্পনা
রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রশাসনের অবস্থান অনেক বেশি কঠোর হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” নীতির কথা ঘোষণা করার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় নাগরিকত্ব যাচাই, নথি খতিয়ে দেখা এবং সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে বলে খবর। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনিভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে একাধিক “হোল্ডিং সেন্টার” তৈরির সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, যাঁদের নাগরিকত্ব বা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলিতে রাখা হতে পারে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে নজরদারি আগের তুলনায় অনেক বেশি কড়া হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই কড়া প্রশাসনিক অবস্থানের জেরেই বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ নথি ছাড়া ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে অনেকে এখন স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। হাকিমপুর সীমান্তে সাম্প্রতিক ভিড়কে সেই “রিভার্স মাইগ্রেশন”-এরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর-এর সময় বাড়ি বাড়ি নথি যাচাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। তখনও বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল।







