
NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নফাঁস মামলায় জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অতীতের একাধিক বিতর্কিত ঘটনার পরেও শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও বাস্তব শিক্ষা নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। দেশের কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেখানে জড়িত, সেখানে বারবার এই ধরনের অনিয়ম সামনে আসা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।
এই মামলার (NEET) শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার, শিক্ষা মন্ত্রক এবং NTA-কে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পূর্ববর্তী সময়ে NEET পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যত অভিযোগ, তদন্ত এবং রিপোর্ট জমা পড়েছে, তার সমস্ত নথি বিস্তারিতভাবে আদালতে পেশ করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই বিষয়ে কেন্দ্র কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস কাণ্ড (NEET) সামনে আসতেই দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্র পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। যদিও NTA-র পক্ষ থেকে বারবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি করা হয়েছে, তবুও বাস্তবে এই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠে আসায় আদালতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (FAIMA) সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র তদন্ত নয়, পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। FAIMA-র মতে, NTA-র পরিবর্তে একটি প্রযুক্তি নির্ভর স্বশাসিত সংস্থা গঠন করা উচিত, যা আরও স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে NEET-UG পরীক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) হিসেবে চালু করা উচিত। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে বলে তাদের দাবি। পাশাপাশি একটি বিশেষ নজরদারি কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যারা পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।













