
কলকাতা: শপথ নেওয়ার পর আজ তৃতীয় সোমবার। সকাল থেকেই সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দফতরের সামনে উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে প্রতি সোমবার করে ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকাল থেকেই সেখানে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বিশেষ করে বিগত জমানার নিয়োগ দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া কয়েকশো ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থী এদিন সকাল ৯টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে শুরু করেন। তেরো বছরের নিয়োগ-জট কাটাতে এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন তাঁরা। (Shuvendu Adhikari Janatar Darbar)
কীভাবে মিলছে মুখ্যমন্ত্রীর দেখা? জেনে নিন রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম
সল্টলেকের দফতরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একটি সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন ও টোকেন: জনতার দরবারে আসা প্রত্যেক সাক্ষাৎপ্রার্থীর নাম ও অভিযোগ প্রথমে নির্দিষ্ট কাউন্টারে নথিভুক্ত বা রেজিস্টার করা হচ্ছে।
টোকেন নম্বর: নাম নথিভুক্ত হওয়ার পর প্রত্যেকের হাতে দেওয়া হচ্ছে একটি করে নির্দিষ্ট নম্বর যুক্ত টোকেন।
ডাক পাওয়ার নিয়ম: নিচের তলায় অপেক্ষা করার পর টোকেন নম্বর ধরে ধরে প্রার্থীদের ওপরের তলায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে পাঠানো হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার কারণে একবারে ৫ জনের বেশি কাউকে শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
১৩ বছরের জট কাটাতে শুভেন্দুর ওপরই ভরসা চাকরিপ্রার্থীদের
প্রাথমিক তালিকায় ৯টি চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের আসার কথা থাকলেও, এদিন সকাল হতেই দেখা যায় প্রায় ১৫টি সংগঠনের শ’য়ে শ’য়ে প্রতিনিধি এসে হাজির হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে আন্দোলনের দিনগুলিতে বরাবরই আমাদের পাশে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মাথায় হাত রেখে লড়াইয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী, তাই আমাদের বিশ্বাস তিনিই এই দীর্ঘ ১৩ বছরের জট কাটাবেন।” চাকরিহারা যোগ্য প্রার্থীরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দাবি জানাবেন বলেও জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
জনতার দরবারের পরই পুলিশকর্তাদের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক
শুধু আমজনতার অভাব-অভিযোগ শোনাই নয়, সোমবারই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের ডিডি (DG), এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটির। সরকার বদলের পর রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বড়সড় কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।













