
আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জনতার দরবারের দ্বিতীয় দিন। বিজেপির সল্টলেক অফিসে আয়োজিত এই জনতার দরবার ঘিরে সকাল থেকেই ব্যাপক উৎসাহ এবং ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারাদের একাধিক সংগঠনের সদস্যরা এদিন সকাল থেকেই পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হন। জানা গিয়েছে, আজকের কর্মসূচিতে মোট ৯টি চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারাদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, নিয়োগ দুর্নীতি এবং চাকরি হারানোর অভিযোগ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এই সংগঠনগুলির সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজেদের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরবেন।
বিগত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে চাকরি দুর্নীতি ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দফতরে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহু চাকরিপ্রার্থী অভিযোগ করেছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা চাকরি পাননি। আবার অনেকে আদালতের নির্দেশের পর চাকরি হারিয়েছেন। ফলে একদিকে যেমন চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তেমনই চাকরিহারাদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনতার দরবারকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন অনেকেই।
আজকের এই কর্মসূচিতে শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনবেন বলেই জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের দাবি ও অভিযোগ লিখিত আকারেও জমা দিতে পারেন। চাকরি সংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবিও উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, রাজ্যের বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারাদের পাশে তারা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের আন্দোলনে সমর্থন জানাবে। সল্টলেকের বিজেপি অফিসে সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের তরফেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেকেই ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরছেন। কারও হাতে “যোগ্যদের চাকরি চাই” লেখা পোস্টার, আবার কেউ “দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ চাই” স্লোগান তুলছেন। জনতার দরবার ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, আজই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকর্তাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা এবং ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিক্ষোভ এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।













