
ডোমকল: ২৪ মে রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল থানার কুচিয়ামোর এলাকায় ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা (Domkal)। এক অভিযুক্ত দুষ্কৃতী আজমত শেখকে গ্রেফতার করতে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের হামলার মুখে পড়ে পুলিশ। ঘটনায় আহত হন এক সাব-ইন্সপেক্টর-সহ মোট চারজন পুলিশকর্মী। পরে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন দুই মহিলা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমকল থানার চারজন সদস্যের একটি ছোট দল সকালে কুচিয়ামোর গ্রামে যায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী আজমত শেখকে গ্রেফতার করতে। আজমতের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তবে অভিযানে যাওয়া পুলিশকর্মীরা সাদা পোশাকে ছিলেন এবং খুব গোপনীয়তার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছিল। সেই কারণেই শুরু হয় বিভ্রান্তি।
আরও দেখুনঃ শিবপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শামীম আহমেদকে আদালতে পেশ
স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, তাঁরা প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে ওই ব্যক্তিরা পুলিশকর্মী। গ্রামের মধ্যে হঠাৎ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে আজমত শেখকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে দেখে অনেকে মনে করেন এটি কোনো অপহরণের ঘটনা। এরপরই কয়েকজন গ্রামবাসী বাধা দিতে এগিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
অভিযোগ, ক্রমশ উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর হামলা চালায়। লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়েও কিছু মানুষ তেড়ে আসে বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর আহত হন সাব-ইন্সপেক্টর কুদ্দুস শেখ। এছাড়াও আরও তিনজন পুলিশকর্মী চোট পান। বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত আজমত শেখকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় জনতা।
ঘটনার খবর থানায় পৌঁছাতেই বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌঁছে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি অভিযান। রাতভর অভিযানের পর সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন রবিয়া বিবি ও শ্যামলী খাতুন নামে দুই মহিলা। পুলিশের দাবি, হামলার ঘটনায় এই দুই মহিলার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এছাড়াও আরও কয়েকজন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অবশ্য দাবি করেছেন, গোটা ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুরু হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ যদি আগে পরিচয় দিত বা ইউনিফর্ম পরে অভিযান চালাত, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না। যদিও পুলিশের দাবি, অভিযুক্তকে ধরতেই গোপন অভিযানের প্রয়োজন ছিল।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে এবং পুলিশও নিরাপদ নয়। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, ঘটনাটিকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাকে রেয়াত করা হবে না।
বর্তমানে আহত পুলিশকর্মীদের চিকিৎসা চলছে। পলাতক আজমত শেখের খোঁজে একাধিক জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে গ্রামে গোপন অভিযানের ক্ষেত্রে পুলিশের কৌশল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও।







