
তিলজলা, বেলেঘাটা, কসবা সহ কলকাতার একাধিক এলাকায় রবিবার ফের বড়সড় বুলডোজার অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকা বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার কাজেই এদিন সক্রিয় দেখা যায় প্রশাসনকে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে চালানো এই অভিযানে একাধিক অবৈধ কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বর্তমান সরকারের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট শহর কিংবা রাজ্যের কোথাও বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। সেই নীতির অংশ হিসেবেই ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। আগেও কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছিল, রবিবারের অভিযান সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
এদিন কসবা এলাকায় অভিযানের সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেখানে পুর দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ভাঙার কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনবিহীনভাবে একাধিক বহুতল ও কাঠামো তৈরি হয়েছিল ওই এলাকায়। সেই সব নির্মাণই এদিন বুলডোজারের সাহায্যে ভেঙে ফেলা হয়। এ বিষয়ে পুর দফতরের এক প্রতিনিধি জানান, অবৈধ নির্মাণের তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র ভবন ভাঙাই নয়, এই ধরনের নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই অভিযান নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। একাংশ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও, বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে যে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে আইন অনুযায়ী পরিচালিত অভিযান এবং কোনো ধরনের বেআইনি নির্মাণকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পুর দফতরের এক শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু নির্মাণ ভাঙাই নয়, যাঁরা এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ তৈরি করেছেন, অর্থ লগ্নি করেছেন বা সহযোগিতা করেছেন সবার বিরুদ্ধেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের মতে, শুধু সরাসরি নির্মাতা নয়, পুরো চেইন অফ কমান্ডকে চিহ্নিত করা জরুরি।












