Saturday, May 23, 2026
Home Politics ফের গ্রেফতার দেবরাজ ঘনিষ্ট কাউন্সিলার! পুলিশের জালে বিধাননগর পুরসভার সম্রাট বড়ুয়া

ফের গ্রেফতার দেবরাজ ঘনিষ্ট কাউন্সিলার! পুলিশের জালে বিধাননগর পুরসভার সম্রাট বড়ুয়া

tmc-councillor-samrat-barua-arrested-extortion-land-grab

কলকাতা: বিধাননগর পুরনিগমের তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখালকে গ্রেফতার করল বাগুইআটি থানার পুলিশ (Samrat Barua)। তোলাবাজি, হুমকি এবং জমি দখলের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, সম্রাট বড়ুয়া শুধু একজন কাউন্সিলরই নন, তিনি এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, ধৃত সম্রাট বড়ুয়া বিধাননগর পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর। রাজনৈতিক মহলে তিনি মেয়র পারিষদ তথা তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। অনেকে তাঁকে দেবরাজের ‘ডান হাত’ বা ‘ছায়াসঙ্গী’ বলেও উল্লেখ করেন। একসময় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন সম্রাট। পরে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে কাউন্সিলরের আসনে পৌঁছে যান।

   

আরও দেখুনঃ ‘দিদির অন্ধ স্নেহে দল শেষ!’ নাম না করে অভিষেককে তোপ পার্থর

তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং জমির মালিকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। অভিযোগ ছিল, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, হুমকি এবং জমি দখলের মতো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। বহুবার মৌখিক অভিযোগ উঠলেও, এবার পুলিশ সরাসরি পদক্ষেপ নিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৬টা নাগাদ বাগুইআটি এলাকা থেকেই সম্রাট বড়ুয়াকে প্রথমে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। এরপর রাতেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

এই গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই শাসকদলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন সম্রাট বড়ুয়া। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকার বহু ছোট ব্যবসায়ী এবং বাড়ির মালিক দীর্ঘদিন ধরে নানা রকম চাপের মধ্যে ছিলেন। কেউ নতুন নির্মাণ করতে গেলে বা জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নানাভাবে বাধা এবং আর্থিক দাবির মুখে পড়তে হত বলে অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা আদালতেই প্রমাণিত হবে, তবুও কাউন্সিলরের গ্রেফতারিতে এলাকায় বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সম্রাট বড়ুয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছিল। বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পরই তাঁকে আটক এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই অভিযোগগুলির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের জন্য পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।

শনিবার তাঁকে বারাসাত আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। আদালতে পুলিশ কী বক্তব্য রাখে এবং ধৃত কাউন্সিলরের আইনজীবীরা কী সওয়াল করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। কারণ, এই ঘটনা শুধু একটি গ্রেফতারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Follow on Google