
কাবুল: আফগানিস্তানের শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য সহায়তা পৌঁছে দিল ভারত। (Afghanistan)দেশটিতে ২০ টন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ পাঠিয়েছে ভারত, যা বিসিজি (BCG) এবং টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া (TD) টিকা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই সাহায্য আফগানিস্তানের জাতীয় শিশু টিকাকরণ কর্মসূচিকে নতুন করে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই চালানটি কাবুলে পৌঁছেছে এবং আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুধু এই একটি চালান নয়, আরও কয়েকটি চালান পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে থেকে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা করতে তারা বদ্ধপরিকর।আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিশু টিকাকরণ কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে। হাজার হাজার শিশু এখনও বিসিজি, টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরও দেখুনঃ মন্ত্রিত্বের পর এই প্রথম মেদিনীপুর শহরে চা চক্র এ আড্ডা তে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ
এই পরিস্থিতিতে ভারতের এই সাহায্যকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিসিজি টিকা যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধ করে, আর টিডি টিকা নবজাতক ও শিশুদের টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করে।ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উপকরণগুলো দিয়ে আফগানিস্তানে স্থানীয়ভাবে টিকা তৈরির ক্ষমতা বাড়ানো যাবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির নিজস্ব টিকাকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং বাইরের সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমবে।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এই সাহায্যের জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, “এই সময়ে ভারতের সহায়তা আমাদের শিশুদের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখবে।”ভারতের এই উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও মানবিক সম্পর্কের প্রতিফলন। তালেবান শাসনের পরও ভারত আফগান জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে মানবিক সাহায্য পাঠিয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ভারত আফগানিস্তানে খাদ্যশস্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ নানা ধরনের সাহায্য পৌঁছে দিয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তানে শিশু মৃত্যুর হার এখনও অনেক বেশি। টিকাকরণের আওতা বাড়ানো গেলে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব। ভারতের পাঠানো এই উপকরণগুলো সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় যেখানে টিকা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, “আফগানিস্তানের জনগণ আমাদের বন্ধু। তাদের দুঃসময়ে আমরা পাশে থাকব। স্বাস্থ্য খাতে এই সহায়তা আমাদের সেই অঙ্গীকারের অংশ।” আরও কয়েকটি চালান শিগগিরই পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।







