ডেবরা: রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল হতেই এবার জেলা স্তর থেকে একের পর এক তৃণমূল নেতার বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলতে শুরু করেছে। এবার সিজারিয়ান স্ক্যালপেলের নিচে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লক। ডেবরা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ করের নামে শুধু নিজের এলাকাতেই রয়েছে অন্তত ৬৪টি প্লটের জায়গা এবং প্রায় ৩ বিঘা জমির ওপর তৈরি এক বিলাসবহুল আলিশান বাগানবাড়ি! একদা সাধারণ আর্থিক অবস্থার এই নেতার ১৫ বছরের জমানায় কীভাবে এত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাড়ল, তা নিয়ে এবার তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি। এতদিন দাপটের ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও, জমানা বদলাতেই এবার ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। (pradip kar property)
৩ বিঘার ওপর রাজপ্রাসাদ, পুকুর ভরা মাছ
পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের বালিচক এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ কর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এক সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সাধারণ ছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়ে যান তিনি। বালিচক শহর ছাড়িয়ে পাকুই গ্রামের পাশে মাঠের মাঝখানে প্রায় ৩ বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রদীপের এক আলিশান বাগানবাড়ি। তিনতলা সেই বাড়ির অন্দরে রয়েছে বিশাল ফুল-ফলের বাগান এবং মাছ চাষের জন্য বড় পুকুর। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনও বড় ব্যবসা বা চাকরি ছাড়া স্রেফ কাটমানির টাকাতেই এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলেছেন তিনি।
ছাত্র রাজনীতি থেকে কোটিপতি ব্লক সভাপতি
অভিযোগ, গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় নিজের পদকে ব্যবহার করেই এই বিপুল সম্পত্তির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন প্রদীপ। তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন থেকে যুব সংগঠনের সিঁড়ি পেরিয়ে গত টার্মে পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ হন তিনি। এই টার্মে পান পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতির পদ এবং বর্তমানে তিনি ডেবরা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। সরকারি নথিতেই দেখা যাচ্ছে, বিগত দেড় দশকে শুধু নিজের নামেই ৬৪টি ভিন্ন জায়গায় জমি কিনেছেন তিনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
তদন্তের দাবিতে সরব বিজেপি
এতদিন এলাকায় প্রদীপের কড়া দাপট থাকায় মুখ খোলার সাহস পাননি কেউ। তবে রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে বদল আসতেই এখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহু গ্রামবাসী এই ‘কাটমানি রাজ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা এলাকার বাসিন্দা অসিত কুমার রাউত স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন, “কোনও বৈধ আয় ছাড়া একজন ব্লক সভাপতির কীভাবে এত সম্পত্তি এবং বিলাসবহুল বাগানবাড়ি হতে পারে, তার নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় তদন্ত হওয়া উচিত।” এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়ে এখন ডেবরার হাটে-বাজারে তুমুল গুঞ্জন।



















