বিধাননগর এলাকায় ফের সামনে এল তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কিশোর হালদার নামে এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীকে (Debraj Chakraborty aide arrested) । অভিযোগ, তিনি বিধাননগর পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বা ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত। ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, (Debraj Chakraborty aide arrested) বুধবার অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। এরপর তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন এবং পুরো ঘটনার পেছনে একটি সংগঠিত তোলাবাজি চক্র কাজ করছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাগুইআটি থানার অন্তর্গত রঘুনাথপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রোমোটার কিশোর হালদারের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলার দাবি করা হয় অমিত চক্রবর্তীর তরফে। অভিযোগ, এলাকায় নির্মাণ কাজ চালানোর জন্য বিভিন্ন সময় এই ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হতো।
কিশোর হালদার প্রথমে পরিস্থিতি সামলাতে ৩ লক্ষ টাকা দেন বলে অভিযোগ। তবে এরপর বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বন্দুকের বাট এবং লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন প্রোমোটার কিশোর হালদার। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় বলে জানা যায়। এই ঘটনার পরেই বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কিশোর হালদার। অভিযোগে তিনি স্পষ্টভাবে অমিত চক্রবর্তী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পুলিশি তদন্তে একাধিক তথ্য (Debraj Chakraborty aide arrested) উঠে আসার পরই অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে, যা এই মামলার পরিধি আরও বড় করতে পারে। পুলিশ মনে করছে, এই ধরনের তোলাবাজি কেবল একটি ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আরও একাধিক ঘটনার যোগ থাকতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নির্মাণ সংক্রান্ত কাজকে কেন্দ্র করে চাপ এবং আর্থিক দাবি-দাওয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। তবে এতদিন পর্যন্ত কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। এই গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অমিত চক্রবর্তীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের নামও সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে টাকা কোথায় কোথায় লেনদেন হয়েছে, কারা কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে অভিযুক্তকে বারাসত আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তের গতি বাড়াতে পুলিশ দ্রুত হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে চায়। এই মামলায় আগামী দিনে আরও গ্রেফতারি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।




















