প্রশ্নে নারী নিরাপত্তা! মহম্মদ আজিজের কাণ্ডে রণক্ষেত্র মোদী রাজ্য

surat-minor-harassment-sheikh-mohammed-aziz-case-women-safety

সুরাট: গুজরাটের সুরাটে এক নাবালিকা ছাত্রীর উপর অশ্লীল আচরণের ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। (Surat)৪৯ বছর বয়সী শেখ মহম্মদ আজিজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি একটি নাবালিকা মেয়েকে তার টিউশন থেকে ফেরার পথে দুই চাকার গাড়িতে করে যাওয়ার সময় অশ্লীলতা করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে সুরাটের আলথান এলাকায়।

অভিযোগের পরপরই স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং আলথান পুলিশ স্টেশনের সামনে বড়সড় জমায়েত হয়ে পুলিশ স্টেশনের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, এলাকাটি কয়েক ঘণ্টার জন্য রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেলে। নাবালিকা মেয়েটি তার টিউশন ক্লাস থেকে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তায় শেখ মহম্মদ আজিজ তার দুই চাকার গাড়িতে করে মেয়েটির কাছে এগিয়ে আসেন এবং অশ্লীল আচরণ করার চেষ্টা করেন।

   

আরও দেখুনঃ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত, ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি! ১১ জেলায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস

মেয়েটি ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠে এবং কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। বাড়িতে ফিরে সে তার পরিবারকে পুরো ঘটনা জানায়। পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ আলথান পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত শেখ মহম্মদ আজিজকে গ্রেফতার করে স্টেশনে নিয়ে আসে।কিন্তু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সত্ত্বেও স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ কমেনি। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মানুষ আলথান পুলিশ স্টেশনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন।

তারা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন যে, এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ যথেষ্ট কঠোর নয় এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি হয় না। কিছুক্ষণের মধ্যেই জনতা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ স্টেশনের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সুরাটের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ আর. দেশাই জানান, “আজ আলথান পুলিশ স্টেশনে একটি মেয়ে টিউশন থেকে ফেরার সময় এক ব্যক্তি তার উপর হামলা করার চেষ্টা করে।

অভিযুক্ত ৪৯ বছর বয়সী শেখ মহম্মদ আজিজকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বর্তমানে হেফাজতে রাখা হয়েছে।”এই ঘটনা গুজরাটের নারী নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মোদী রাজ্য হিসেবে পরিচিত গুজরাটে এমন ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে নাবালিকা মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, শহরের রাস্তায় মেয়েরা একা চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন। টিউশন, স্কুল বা কোচিং সেন্টার থেকে ফেরার পথে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি উঠেছে যে, রাস্তায় নিয়মিত পেট্রোলিং বাড়াতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।