‘হিন্দু তাড়াও দেশ বাঁচাও!’ বাসুদেবপুরে তৃণমূলের স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

basudevpur-slogan-controversy-west-bengal-bike-rally

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে ফের বিতর্কের ঝড় উঠেছে একটি কথিত স্লোগানকে ঘিরে। (Basudevpur slogan)হাওড়ার বাসুদেবপুর এলাকায় একটি বাইক র‍্যালিকে কেন্দ্র করে দাবি উঠেছে, সেখানে “হিন্দু তাড়াও, দেশ বাঁচাও” ধরনের উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে এই দাবি ঘিরে এখনও পর্যন্ত সরকারি বা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিছু ভিডিও এবং পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ওই স্লোগান দেওয়া হয়েছে। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি, তবুও তা ঘিরে বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের সময়ে এই ধরনের ভিডিও বা দাবি প্রায়শই সামনে আসে, যার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়ো বা আংশিক সত্য তথ্য থাকতে পারে।

   

আরও দেখুনঃ উত্তরবঙ্গে নির্বাচন আবহে মোতায়েন ৭৮৮ কোম্পানি কেন্দ্রিয় বাহিনী

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের স্লোগান যদি সত্যিই দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করার প্রচেষ্টা। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করে ভোটের রাজনীতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার উদ্দেশ্য নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তি ছড়ানো। তাঁদের দাবি, তৃণমূল কখনওই এই ধরনের বিভাজনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এই ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে তথ্য ছড়ানোর গতি এত দ্রুত যে, কোনও ঘটনার সত্যতা যাচাই হওয়ার আগেই তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেক সময় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর দাবি নিয়েও বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়। এই ক্ষেত্রে তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, যদি এই ধরনের স্লোগান সত্যিই দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা বন্ধ করা জরুরি। আবার অন্য একাংশের মতে, যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়, কারণ নির্বাচনের সময়ে অপপ্রচারও বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি সামনে আসেনি। তবে পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি করা হবে না বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।