ইডির ডাকে সিজিও কমপ্লেক্সে নুসরত, সঙ্গে যশ

কলকাতা: ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে অভিনেত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান (Nusrat Jahan Appear  -কে ঘিরে। এই মামলার তদন্তে তাঁকে…

"Yash Sends Sweet Birthday Wishes to Nusrat on Social Media"

কলকাতা: ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে অভিনেত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান (Nusrat Jahan Appear  -কে ঘিরে। এই মামলার তদন্তে তাঁকে আবারও তলব করেছে  ইডি। বুধবার সকালে নির্ধারিত সময়েই ইডি দফতরের উদ্দেশে রওনা দেন নুসরত(Nusrat Jahan Appear Before ED) । সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা ও বিধায়ক যশ দাশগুপ্ত।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে যে সমস্ত নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল, তার বেশিরভাগই সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন নুসরত। তদন্তকারীরা তাঁর আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চাইছেন। এই জেরাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে রাজারহাটের একটি বহুল আলোচিত ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় নাম জড়ায় নুসরতের। অভিযোগ ওঠে, একটি বেসরকারি সংস্থা ২০১৪-১৫ সালে চারশোরও বেশি প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে নেয়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেককে এক হাজার বর্গফুটের একটি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাট পাননি বিনিয়োগকারীরা, এমনকি তাঁদের অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।

   

এই ঘটনার পরেই বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা ইডির দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন নুসরত জাহান। সেই সূত্রেই তদন্তের আওতায় আসেন তিনি। যদিও শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নুসরত। তাঁর দাবি, তিনি কোনও প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর নাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। তখনও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। তবে নতুন করে তলব হওয়ায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তদন্তকারীরা এবার আরও গভীরে গিয়ে আর্থিক লেনদেনের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে পারেন বলে অনুমান। আজকের জেরায় নুসরতের কাছে মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখা হতে পারে তিনি কীভাবে ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হলেন, ডিরেক্টর পদে তাঁর ভূমিকা কতটা সক্রিয় ছিল, বিনিয়োগকারীদের টাকা সংগ্রহের বিষয়ে তিনি কতটা অবগত ছিলেন এবং অর্থ লেনদেনের নথিতে তাঁর নাম কেন রয়েছে। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট সংস্থার অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়াতেও নজর দিচ্ছে ইডি।