কলকাতা: কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর বিশেষ আদালত সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারকে (Joy Kamdar)২৮ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ) মামলায় গ্রেফতার হওয়া এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বিশ্বজিত পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ক্রিমিনাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর শহরের ব্যবসায়িক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) ইডি কলকাতায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। এর মধ্যে বেহালায় জয় কামদারের বাড়ি এবং কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত দুটি জায়গা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তল্লাশির সময় জয় কামদারের বাড়ি থেকে প্রায় ১.২ কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হয় বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে। সোমবার তাঁকে এডি-র বিশেষ আদালতে তোলা হয়।
আরও দেখুনঃ মোদীর উদ্বোধনের আগেই পুড়ে ছাই ৮০ হাজার কোটির রিফাইনারি
আদালতে জয় কামদারের আইনজীবী সুব্রত সরকার বলেন, “তাঁকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ২৮ এপ্রিল তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে। প্রতি ৪০ ঘণ্টা অন্তর তাঁর মেডিকেল চেকআপ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সঙ্গে একজন আইনজীবী উপস্থিত থাকবেন।” আদালতের এই নির্দেশ নিশ্চিত করেছে যে, অভিযুক্তের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হবে।এই মামলাটি ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত এক অপরাধী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, জয় কামদারের সান এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও নগদ টাকা এই তদন্তকে আরও গভীরতা দিয়েছে। ইডি কর্মকর্তারা বলছেন, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত এখনও চলছে।জয় কামদার কলকাতার এক পরিচিত ব্যবসায়ী। সান এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালায়।
তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এই ঘটনা কলকাতার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে কোনও প্রভাব ফেলবে কি না। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত জায়গায় তল্লাশির খবরও বিতর্ক তৈরি করেছে।ইডির এই অভিযান বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় রাজনৈতিক-প্রশাসনিক মহলে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ এটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করলেও, ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তদন্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় চলছে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নেই।




















