কলকাতা: বাংলা ভোটের প্রচারে এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান৷ রবিবার রাতে সল্টলেক-বিধাননগরে বিজেপির প্রচারে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নার্ভাস হয়ে পড়েছেন৷ কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন যে বাংলার মানুষ এবার তাঁকে নিশ্চিতভাবে হারাবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্য
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নার্ভাস। তিনি বুঝতে পেরেছেন বাংলার মানুষ এবার তাঁকে নিশ্চিতভাবে হারাবে। তাঁর সমর্থনের ভিত্তি শেষ হয়ে গিয়েছে। পুরো বাংলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর আস্থা রেখে ডবল ইঞ্জিন সরকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ বাংলার সমস্ত সনাতনী মানুষ অনুপ্রবেশকারীদের চাপে ভয় পাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বত্র এই ঘটনা দেখছেন, তাই তিনি নার্ভাস হয়ে উঠেছেন। সেই কারণেই তিনি আজেবাজে কথা বলছেন।”
ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য বিধাননগরের জনসভায় বড় উত্তাপ তৈরি করেছে। তিনি দাবি করেন যে তৃণমূলের সমর্থন ভিত্তি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন।
ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতি আহ্বান
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার (ডবল ইঞ্জিন) চান। তিনি বলেন, “পুরো বাংলা ডবল ইঞ্জিন সরকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”
ধর্মেন্দ্র প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র শাসনকে “অপশাসন” বলে আখ্যায়িত করে বলেন যে তাঁর সরকারের আমলে অনুপ্রবেশ, নারী নিরাপত্তা এবং সনাতনী সংস্কৃতির উপর চাপ বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
বিজেপির প্রচারে নতুন গতি
বিধাননগরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই সফর বিজেপির প্রচারে নতুন গতি এনেছে। দলের কর্মীরা মনে করছেন যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজেপির বার্তা আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দেবে।
রায়গঞ্জে কঙ্গনা রানাউতের রোড শোর পর বিধাননগরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সভা বিজেপির তারকা প্রচারের ধারাবাহিকতা দেখিয়ে দিয়েছে। দলটি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রে এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের নেতারা আগে এ ধরনের মন্তব্যকে “বিজেপির মিথ্যা প্রচার” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বিধাননগরসহ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের আক্রমণ আরও তীব্র হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই সভা দেখিয়ে দিয়েছে যে বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র সরকারকে “অপশাসন ও অনুপ্রবেশের রাজনীতি” বলে আক্রমণ করে ভোটে লাভবান হতে চাইছে।




















