নয়াদিল্লি: লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল আটকে যাওয়াকে ‘গণতন্ত্রের বড় জয়’ হিসেবে অভিহিত করলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শনিবার এআইসিসি সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানান, এই জয় আসলে সংবিধান এবং বিরোধী ঐক্যের জয়। তাঁর দাবি, বিলটির আড়ালে বিজেপি সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে ‘ষড়যন্ত্র’ করেছিল, তা দেশের মানুষ বুঝে গিয়েছেন।
বিজেপি-র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “গতকাল যা ঘটেছে তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকার চেয়েছিল বিল পাশ হলে কৃতিত্ব নিতে, আর না হলেও সুবিধা ভোগ করতে। কিন্তু তাদের সেই ফাঁদ সফল হয়নি।” প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, বিশেষ অধিবেশন ডেকে হঠাৎ এই বিল আনার নেপথ্যে ছিল ‘স্থায়ী সরকার’ গঠনের এক গোপন রাজনৈতিক অভিসন্ধি।
ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ Women reservation bill defeat India
বিলটির সঙ্গে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস জুড়ে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর প্রশ্ন, “যে সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্মান দেয় না, তারা মহিলা সংরক্ষণের নামে লোকসভার আসন সংখ্যায় আমূল বদল আনবে, এটা বিরোধী দলগুলি কীভাবে মেনে নিতে পারে?” তিনি আরও বলেন, বিজেপি আসলে মহিলাদের অধিকার নয়, বরং নিজেদের ‘স্বৈরাচারী’ ক্ষমতা কায়েম রাখার চেষ্টায় ছিল।
পুরনো উদাহরণ টেনে আক্রমণ
সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “মহিলাদের নিয়ে বিজেপি-র দরদ আসলে লোকদেখানো। আমরা উন্নাও এবং হাথরাসের ঘটনা দেখেছি। মণিপুরে যখন মহিলাদের ওপর অত্যাচার হলো, তখন কে কথা বলেছিল?” তাঁর দাবি, ভারতের মহিলারা এত বোকা নন যে তারা এই ভাঁওতা বুঝতে পারবেন না।
২০২৩-এর বিলে সমর্থনের প্রস্তাব
বিরোধী ঐক্য যে সরকারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে, তা প্রিয়াঙ্কার কথাতেই স্পষ্ট। তিনি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আপনারা যদি সত্যিই মহিলাদের জন্য কিছু করতে চান, তবে ২০২৩-এর পুরনো বিলটি ফিরিয়ে আনুন। বর্তমান আসন সংখ্যাতেই সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রস্তাব দিন, আমরা আপনাদের পূর্ণ সমর্থন দেব।
প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, ডিলিমিটেশন ইস্যুতে বিরোধীরা একচুল জমিও ছাড়তে রাজি নয়। লোকসভায় বিল পাশের ব্যর্থতা এবং প্রিয়াঙ্কার এই সরাসরি আক্রমণ ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিল।




















