কলকাতা: ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন তুঙ্গে, তখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে রাজ্য থেকে সরানোর দাবিতে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস (central agencies)। আই-প্যাক (I-PAC)-এর কো-ফাউন্ডার ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহেই তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে ডেরেক ও’ব্রায়েন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা ভিনেশ চান্ডেলের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি চাই। পাশাপাশি ভোটের আগে বাংলার মাটি থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরনের গ্রেফতারি করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ আইপ্যাক কর্তা গ্রেফতারিতে ইডির ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু
তিনি কটাক্ষের সুরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট নাম পরিবর্তন করে ‘Extremely Desperate’ বলেও মন্তব্য করেন। ডেরেকের কথায়, “ভোটের ঠিক ১০ দিন আগে এই ধরনের অভিযান আইন প্রয়োগ নয়, এটি সরাসরি নির্বাচনী নাশকতা।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। পিএমএলএ-র আওতায় ইডির কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “ইডির মামলাগুলির মাত্র ০.১ শতাংশে দোষী সাব্যস্ত হয়। তাহলে এত অভিযান কেন?” তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের ২৫ জন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা থাকলেও, তাদের মধ্যে ২৩ জন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ‘ধোয়া তোলা তুলসীপাতা’ হয়ে গেছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি ‘নির্মা এফেক্ট’-এর উদাহরণ টেনে বলেন, “বিজেপিতে যোগ দিলেই যেন একটা নির্মার প্যাকেট দেওয়া হয়, আর সব অভিযোগ ধুয়ে মুছে যায়।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে হাস্যরসের পাশাপাশি তীব্র বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে নির্বাচনের আগে বিরোধীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে, আইন তার নিজের পথে চলছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি ঘিরে এই টানাপোড়েন এখন বাংলার নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই’ এই দুই মেরুর সংঘর্ষে ভোটের লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে।




















