কলকাতা: ময়দানের ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই প্রবল হোক, বাংলা নববর্ষের আবহে আবারও ধরা পড়ল এক অন্য ছবি। বছরের অন্য সময় মাঠে, গ্যালারিতে কিংবা সমর্থকদের আবেগে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল যেন দুই মেরু। কিন্তু পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে দুই প্রধান ক্লাবের পক্ষ থেকেই প্রকাশ্যে এল সৌহার্দ্য, ঐতিহ্য আর একসঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করার বার্তা। সবুজ-মেরুন শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১লা বৈশাখ ১৪৩৩, অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল বুধবার সকালে ময়দানে চিরাচরিত প্রথা মেনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে। সদস্য, সমর্থক এবং তাঁদের পরিবারকে সেখানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টায় বারপুজো, সকাল ১০টায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সংগীতশিল্পী ঋষি পান্ডার পরিবেশনার কথাও জানানো হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে ক্লাবকর্তারা সকলের জন্য প্রীতি, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তাও পাঠিয়েছেন। মোহনবাগান ক্লাব সভাপতি দেবাশীষ দত্ত জানান “বাংলা নববর্ষ শুধু ক্যালেন্ডারের নতুন দিন নয়, এটি আমাদের অনুভূতি, স্মৃতি আর নতুন স্বপ্ন দেখার সময়। মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে এই দিনটির সম্পর্ক বহু পুরনো, বহু আবেগে জড়ানো। বছরের পর বছর প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমর্থক, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা পয়লা বৈশাখের সকালে ক্লাবে এসে একসঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন।
কারও কাছে এটি পারিবারিক ঐতিহ্য, কারও কাছে শৈশবের স্মৃতি, কারও কাছে আবার মোহনবাগানের সঙ্গে হৃদয়ের টান আরও গভীর করার দিন। সেই সুন্দর ঐতিহ্য আজও সমান গর্বের সঙ্গে বহন করে চলেছে মোহনবাগান পরিবার।আমরা চাই, এই বিশেষ দিনে সবুজ-মেরুন পরিবারের প্রত্যেকে আবার এক ছাদের নীচে মিলিত হোন। ক্লাব শুধু ফুটবল দল নয়, এটি সম্পর্কের বন্ধন, আবেগের ঠিকানা এবং একতার প্রতীক। নতুন বছরে সকলের জীবনে সুখ, সুস্থতা, শান্তি ও সাফল্য আসুক—এই প্রার্থনাই করি। আপনাদের ভালোবাসাই মোহনবাগানের সবচেয়ে বড়
শক্তি”।
অন্যদিকে লাল-হলুদ শিবিরও একইভাবে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সাজিয়েছে নিজেদের অনুষ্ঠান। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে ক্লাব প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে শুভ বারপুজো। ক্লাবের সদস্য, সমর্থক, প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড়, কোচ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকলের উপস্থিতিই আগামী দিনের গৌরবময় পথচলাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। দুই ক্লাবের এই ঘোষণার মধ্যে শুধু অনুষ্ঠানসূচি নেই, রয়েছে কলকাতার আবেগের আরেক রূপ।
ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের কথায় “বাংলা নববর্ষ আমাদের সবার মিলনের উৎসব। ইস্টবেঙ্গল শুধু একটি ক্লাব নয়, লক্ষ সমর্থকের আবেগের নাম। নতুন বছরের এই শুভক্ষণে সকল সদস্য, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। সকলের ভালোবাসা ও পাশে থাকাই ক্লাবের এগিয়ে চলার সবচেয়ে বড় শক্তি।” যে শহরে ফুটবল মানেই বিভাজন, সেখানেই উৎসবের দিনে দেখা যায় মিলনের সুর। সমর্থকরা হয়তো সারাবছর নিজেদের রঙ নিয়ে গর্ব করেন, একে অপরকে খোঁচাও দেন, কিন্তু বাংলা নববর্ষের দিনে তাঁরা সবাই আগে বাঙালি, তারপর সমর্থক।




















