সিলিন্ডারের কালোবাজারি রুখতে নয়া পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে গৃহস্থালির রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি (OTP delivery) সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাঝে মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কাটাতে আশ্বাস ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
lpg-supply-normal-otp-delivery-system-india

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে গৃহস্থালির রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি (OTP delivery) সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাঝে মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কাটাতে আশ্বাস দিয়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনও ঘাটতির খবর পাওয়া যায়নি।

তেল বিপণন সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ডিস্ট্রিবিউটর স্তরেই ‘ড্রাই-আউট’ বা সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং অনলাইন বুকিং ব্যবস্থাও এখন প্রায় ৯৯ শতাংশ কার্যকর রয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে ভারতের ধ্রুবস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র, মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করবে শত শত শত্রু ট্যাঙ্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসার এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাকে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তুলেছে। এখন অধিকাংশ গ্রাহকই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই সিলিন্ডার বুক করতে পারছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা পেয়ে যাচ্ছেন। এই ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ফলে কোথাও সমস্যা তৈরি হলে তা দ্রুত শনাক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে, এলপিজি সরবরাহে কোনওরকম দুর্নীতি বা কালোবাজারি রুখতে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চালু হয়েছে ওটিপি (OTP)-ভিত্তিক ডেলিভারি সিস্টেম। এই ব্যবস্থায়, যখন কোনও গ্রাহকের বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছয়, তখন তার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হয়। সেই ওটিপি ডেলিভারি কর্মীকে জানালে তবেই সিলিন্ডার হস্তান্তর সম্পূর্ণ হয়।

এই পদ্ধতির ফলে সিলিন্ডার অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। সংস্থাগুলির মতে, যদি গ্রাহক নিজে তার ওটিপি অন্য কারও সঙ্গে ভাগ না করেন, তাহলে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর মাধ্যমে ভুয়ো ডেলিভারি বা সিলিন্ডার ডাইভারশন রোধ করা সম্ভব হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট স্টক বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছে। জানা গেছে, প্রতিটি এলাকায় ন্যূনতম ৮৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত স্টক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সীমার নিচে নেমে গেলে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনওভাবেই বাজারে ঘাটতি তৈরি না হয়।

একই সঙ্গে ‘ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাপ্রুভাল ক্লিয়ারেন্স’ (DAC) প্রক্রিয়াকেও আরও কঠোর করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার উপরে কোনও অতিরিক্ত সরবরাহ বা স্টক স্থানান্তর করতে গেলে এখন শুধুমাত্র রাজ্য বা টেরিটরি স্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অনুমতি প্রয়োজন। এর ফলে এলপিজি সরবরাহে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনিয়ম রোধ করা আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google