নয়া দিল্লি: ভোট প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ভোটারদের অংশগ্রহণ রুখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ ব্যবস্থা। সম্প্রতি আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে দেশের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) এবং চোখের মনি (আইরিস) বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হোক। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি চালু হলে ভুয়ো ভোট বা একাধিকবার ভোট দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে এই বিষয়ে তাদের মতামত জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্বাচন কমিশনকে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে আগামী লোকসভা নির্বাচন কিংবা ভবিষ্যতের বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে এই ধরনের বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হলে আইনি কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হতে পারে। শুধু তাই নয়, দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এই ব্যবস্থা চালু করতে গেলে বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়নও অপরিহার্য হয়ে পড়বে। ফলে এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং একটি বিস্তৃত নীতিগত এবং আর্থিক বিবেচনার বিষয় হিসেবেও সামনে আসছে। বর্তমানে ভারতের ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ইলেক্টোরাল ফটো আইডেন্টিটি কার্ড (EPIC) এবং ভোটার তালিকা ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রাথমিকভাবে ভোটার পরিচয় যাচাই করা হয় পরিচয়পত্র দেখে। তবে ভুয়ো ভোট বা ডুপ্লিকেট ভোটার নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার বিষয়।
এই নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি ভোটারকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে যাচাই করা হলে একজন ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে না। পাশাপাশি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার প্রবণতাও রোধ করা সম্ভব হবে। তবে এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।




















