কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে৷ এই আবহে বিজেপি তাদের ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করে ভোটারদের সামনে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে৷ বিশেষ করে বেকার যুবক ও মহিলাদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে৷
সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় কর্মসংস্থানের নতুন দিশা খুলবে এবং বেকারত্ব কমানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ যুবকদের আর্থিক সুরাহা দিতে মাসিক ভাতা চালু করা হবে৷ পাশাপাশি মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে তাঁদের জন্যও একই পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে৷
বর্তমান রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে শাহ বলেন, ‘‘গত কয়েক বছরে রাজ্যে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা বেড়েছে৷ যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে উন্নয়নের কথাই তুলে ধরেছে৷ বিজেপি তাদের ইস্তেহারে জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷’’
সরকারি কর্মচারীদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে৷ বিজেপি জানিয়েছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে৷ এর ফলে ডিএ বৃদ্ধি সহ একাধিক আর্থিক সুবিধা পাবেন সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তরা৷ পাশাপাশি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে৷
মহিলা সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে৷ ‘দুর্গা স্কোয়াড’ গঠন করে মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে৷ প্রতিটি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক এবং প্রতিটি মণ্ডলে পৃথক মহিলা থানার ব্যবস্থা করা হবে৷ এছাড়া সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে৷
শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি৷ উত্তরবঙ্গে এইমস, আইআইটি, আইআইএমসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে৷ পাশাপাশি ক্যানসার হাসপাতাল, ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে৷
অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, হলদিয়া বন্দরের উন্নয়ন এবং চা ও পাট শিল্পে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষান প্রকল্পে অতিরিক্ত সহায়তা দিয়ে বছরে মোট ৯ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ ১০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে৷ যানজট সমস্যা সমাধান, আধুনিক পরিকাঠামো এবং শহরের সামগ্রিক উন্নয়নই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য৷ পাশাপাশি দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে৷




















