নয়াদিল্লি: ইরানের জন্য খালি পায়ে মিছিল করা যেতে পারে, কিন্তু বন্দেমাতরম গাইবার জন্য বাধ্য নই। এমনটাই মন্তব্য করলেন মিম নেতা ওয়ারিস পাঠান (Waris Pathan)। ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বাজেট অধিবেশনে কংগ্রেস কাউন্সিলর ফৌজিয়া শেখ ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠান খোলাখুলি বলেন, “আমরা শুধু আল্লাহরই ইবাদত করি। অন্য কাউকে আমরা চিনি না।” তিনি আরও যোগ করেন, আমরা ইরানের পাশে দাঁড়াতে পারি কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর কিছু লাইন অনুশীলনকারী মুসলিমদের পক্ষে উচ্চারণ করা সম্ভব নয়, তাই তা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
এই বক্তব্য শুনে অনেক সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে একই ব্যক্তি ও তাঁর সমর্থকরা বিদেশি কারণে কত সহজে রাস্তায় নামেন, অনশন করেন, অনুদান সংগ্রহ করেন, কিন্তু নিজের দেশের জন্য সামান্য আবেগ প্রকাশ করতে গেলে কেন এত দ্বিধা? ইরানের সমর্থনে খালি পায়ে মিছিল, ফিলিস্তিন বা অন্য কোনো বিদেশি ইস্যুতে সোচ্চার হওয়া এসব তো দেখা যায়। কিন্তু ভারতমাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলেই কেন “আমরা শুধু আল্লাহকেই চিনি” বলে পিছিয়ে যাওয়া?
আরও দেখুনঃআইপিএল ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া তিন অধিনায়ক
‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা ছিল। অসংখ্য দেশপ্রেমিক, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে, এই গান গেয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এতে মাতৃভূমিকে দেবী রূপে দেখানো হয়েছে যা ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, জাতীয় সঙ্গীত বা গান গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু তা অসম্মান করারও অধিকার কারও নেই।
ওয়ারিস পাঠানের এই অবস্থান নতুন নয়। ২০১৬ সালে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে অস্বীকার করায় তিনি সাসপেন্ড হয়েছিলেন। তখনও তিনি বলেছিলেন, “গুলি করে দিন, তবু বলব না।” এবারও একই সুর। তাঁর সমর্থকরা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কিছু লাইন অসুবিধাজনক। কিন্তু রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে ধর্ম কি দেশপ্রেমের উপরে? নাকি দেশকে ভালোবাসা মানে কি শুধু নিজের সম্প্রদায়ের স্বার্থ দেখা?
এই মন্তব্যের জেরে সামাজিক এবং রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় যেমন উঠেছে তেমনি উস্কে দিয়েছে একাধিক বিতর্ক। বিশেষ করে এই জাতীয় রাজনৈতিক দল শুধু মাত্র সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে রেখে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তারা আরও বলেছেন ভারত বাংলাদেশ বা পাকিস্তান নয় এবং এই দেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করছে মিম নামক এই দলটি।



















