নীরব টহলের জন্য ভারতীয় সেনা কিনবে ‘সাইলেন্ট স্কাউট’ বাইক

ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন তাদের ফিল্ড অপারেশনে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে (Indian Army Electric Bike)। সেনাবাহিনী পুরোনো পেট্রোল বাইকগুলোকে সাইলেন্ট স্কাউট ইলেকট্রিক টু-হুইলার দিয়ে…

ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন তাদের ফিল্ড অপারেশনে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে (Indian Army Electric Bike)। সেনাবাহিনী পুরোনো পেট্রোল বাইকগুলোকে সাইলেন্ট স্কাউট ইলেকট্রিক টু-হুইলার দিয়ে প্রতিস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একটি বিশেষ টেন্ডার জারি করা হয়েছিল। এর লক্ষ্য হলো সেনাবাহিনীর চলাচল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত ও আধুনিক করে তোলা।

এই প্রকল্পের আওতায় সামরিক ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ও স্কুটার সংগ্রহ করা হবে। এছাড়াও একটি ‘ব্যাটারি-চালিত দ্বি-চক্রযান’-এর জন্য পৃথক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যা সৈন্যদের রেডিও ব্যবহার ছাড়াই নিঃশব্দে বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম করবে।

Advertisements

শব্দটি মাত্র ১০ মিটার পর্যন্ত শোনা যাবে
এই বাইকগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এদের প্রায়-নীরবতা। প্রায় ১০ মিটার দূর থেকে এদের শব্দ শোনা যাবে না। এর ফলে সৈন্যরা শত্রুর অলক্ষ্যে অগ্রসর হতে পারবে। সেনাবাহিনী অসমের পার্বত্য অঞ্চল এবং রাজস্থানের মরু অঞ্চলে এগুলো মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে। এই ধরনের এলাকায় নিঃশব্দে চলাচল একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করে।

এতে কী কী থাকবে?
এই ইলেকট্রিক বাইকগুলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চলার মতো যথেষ্ট মজবুত করে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হবে। এগুলো একজন সৈন্যকে (যার ওজন প্রায় ১২০ কেজি) এবং তার সরঞ্জাম সহজেই বহন করতে পারবে। এর আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এই বাইকগুলো মোবাইল পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও কাজ করবে। সৈন্যরা এর ব্যাটারি ব্যবহার করে নাইট ভিশন ডিভাইস, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম চার্জ করতে পারবে।

কোন কোম্পানি টেন্ডারটি জিতবে?
বেশ কয়েকটি ভারতীয় কোম্পানি এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে। রয়্যাল এনফিল্ড তাদের ইলেকট্রিক ‘ফ্লাইং ফ্লি’ বাইক, টিভিএস মোটর কোম্পানি তাদের eFX কনসেপ্ট এবং হিরো মোটোকর্প তাদের ভিডা প্ল্যাটফর্ম নিয়ে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুসারে মডেল তৈরি করছে।

এই পরিবর্তনটি শুধু নতুন বাইক আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সেনাবাহিনীর চিন্তাভাবনায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। যুদ্ধের ময়দানে এখন উচ্চ শব্দযুক্ত ও উত্তপ্ত ইঞ্জিনের বাইকের চেয়ে নীরব, কম তাপ উৎপন্নকারী এবং বহুমুখী বৈদ্যুতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে, এই “সাইলেন্ট স্কাউট” বাইকগুলো সীমান্ত নজরদারি এবং অভিযান ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে।