নজরদারির ঘেরাটোপে সুদীপ্ত সেন, আদালতের শর্ত ভাঙলেই বিপদ

কলকাতা: প্রায় ১৩ বছর পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেতে চলেছেন সারদা কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন (Sudipta Sen) । বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি উদয় কুমার এবং ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Sudipta Sena and Debjani Granted Bail in Three More Saradha Scam Cases

কলকাতা: প্রায় ১৩ বছর পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেতে চলেছেন সারদা কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন (Sudipta Sen) । বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি উদয় কুমার এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার জেল থেকে মুক্তি পাবেন তিনি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সুদীপ্ত সেনকে (Sudipta Sen) । সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাঁর গ্রেফতারি সেই সময় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে এই কেলেঙ্কারি ভারতের অন্যতম বড় আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় পরিণত হয়। সেই সময় থেকে টানা কারাবন্দি ছিলেন তিনি। ঠিক ১৩ বছর পর, একই এপ্রিল মাসে তাঁর সম্ভাব্য মুক্তি এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

   

তবে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনওভাবেই তিনি একই ধরনের আর্থিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে না পারেন। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, সুদীপ্ত সেন কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (CIS) বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (MLM) সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। শুধু পরিচালনা নয়, এই ধরনের সংস্থার প্রচার, এজেন্ট বা পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করা তাঁর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়াও, তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনও ধরনের আমানত সংগ্রহ বা গ্রহণ করতে পারবেন না। অর্থাৎ, যে ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন, সেই ক্ষেত্রেই তাঁর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারবেন না। এতে তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত এই শর্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চেয়েছে যে, জামিনে মুক্তি পেলেও তিনি যেন বিচার ব্যবস্থার উপর কোনও প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন।

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google