স্পেনের গ্রানাডায় অনুষ্ঠিত শুটিং বিশ্বকাপে ভারতের তরুণ শুটারদের দুর্দান্ত সাফল্য আবারও দেশের ক্রীড়ামহলে আশার আলো জ্বালালো। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিক্সড টিম ইভেন্টে সোনা জিতে নজর কেড়েছেন পলক গুলিয়া ও মুকেশ নেলাভাল্লি। শুধু সোনা জেতাই নয়, ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তাঁরা গড়েছেন নতুন জুনিয়র বিশ্বরেকর্ডও। ৪৮৭.৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করে ভারতীয় এই জুটি, যা এই ইভেন্টের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফাইনালে পলক ও মুকেশ দু’জনেই অসাধারণ স্থিরতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। পলক গুলিয়া ২৪৩.০ এবং মুকেশ নেলাভাল্লি ২৪৪.৭ পয়েন্ট করেন। তাঁদের এই যুগ্ম প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত সোনার পদক নিশ্চিত করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁরা হারিয়েছেন শক্তিশালী চিনা জুটি কাই হু ও কিয়ানসুন ইয়াওকে, যারা আগে থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং প্যারিস অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ পদকজয়ী হিসেবে পরিচিত। ফলে এই জয় শুধু একটি পদক নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার জোরালো প্রমাণও।
এই সাফল্য মুকেশ নেলাভাল্লির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি তাঁর প্রথম শুটিং বিশ্বকাপ পদক। সিনিয়র স্তরে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এমন সাফল্য নিঃসন্দেহে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মুকেশ জানিয়েছেন, ফাইনালের সময় মানসিক চাপ সামলে রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পলকের সঙ্গে ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁদের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করেছে। নিজেদের মধ্যে কে বেশি স্কোর করতে পারেন, সেই লড়াই তাঁদের আরও মনোযোগী ও ধারাবাহিক করেছে।
অন্যদিকে পলক গুলিয়ার কাছেও এই সোনা জয় প্রথম বিশ্বকাপ স্বর্ণপদক। যদিও এর আগে তিনি একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন, তবে সোনার স্বাদ এই প্রথম। তিনি স্পষ্টভাবেই জানান, মিক্সড টিম ইভেন্টে জুটির বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ফরম্যাটে চারটি দল ফাইনালে ওঠায় প্রতিযোগিতা অনেক কঠিন হয়ে ওঠে। তাই শুরু থেকেই ছন্দে থাকা জরুরি, এবং তাঁরা সেটাই করতে পেরেছেন। পলকের মতে, মুকেশের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁর কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডেও ভারতীয় জুটি ভালো পারফরম্যান্স দেখায়। ৫৮১-১৭x স্কোর করে তাঁরা দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন। যদিও ভারতের দ্বিতীয় দল সাইন্যম ও উজ্জ্বল মালিক ৫৭৬-১৫x স্কোর নিয়ে নবম স্থানে শেষ করে ফাইনালে উঠতে পারেনি। তবুও সামগ্রিকভাবে ভারতের তরুণ শুটারদের পারফরম্যান্স যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রতিযোগিতায় ভারতের অলিম্পিক পদকজয়ী শুটাররা অংশ নেননি। তবুও নতুন প্রজন্মের শুটাররা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে দিয়েছেন।
মরক্কোর ট্যাঞ্জিয়ারে অনুষ্ঠিত আগের শটগান বিশ্বকাপে ভারত কোনো পদক না পেলেও, গ্রানাডায় এই সাফল্য সেই হতাশা অনেকটাই দূর করেছে। সব মিলিয়ে, পলক ও মুকেশের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারতের শুটিং ভবিষ্যৎ সঠিক হাতে রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের এই আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় সাফল্য আসা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।




















