ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে, রাজনীতি থেকে শুরু করে ক্রীড়াক্ষেত্র, সর্বত্রই তার প্রভাব স্পষ্ট। ২০২৫ সালের পহেলগাম হামলার পর সেই তিক্ততা আরও বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি যেমন হয়েছে, তেমনই তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলিতেও।
বিশেষ করে ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলায় এই দূরত্ব আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এর আগেই দেখা গিয়েছিল, এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দল ভারতে খেলতে আসেনি। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দর্শকরা প্রত্যাশিত ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ উপভোগ করলেও, তা আর ভারতীয় মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফুটবল। আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা SAFF উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে পাকিস্তান মহিলা ফুটবল দলের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল আগেই। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনও নিশ্চিত বার্তা না আসায়, অবশেষে জানা যায়, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না পাকিস্তান।
দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের অনুমতি না পাওয়ার সম্ভাবনাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। তাঁর কথায়, সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে দলকে ভারতে পাঠাতে অনিচ্ছুক ইসলামাবাদ। অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিই আবারও ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রভাব ফেলল।পাকিস্তানের অনুপস্থিতিতে এবারের SAFF উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে ছ’টি দেশ, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। যদিও একটি দল কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে, তবুও আয়োজকরা সূচিতে কোনও রদবদল করেননি। নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালের SAFF চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের পুরুষ ফুটবল দল ভারতে এসে খেলেছিল। তখনও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল না, তবুও ক্রীড়াক্ষেত্রে একটি সাময়িক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা আর দেখা যাচ্ছে না। বরং ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা যতদিন বজায় থাকবে, ততদিন ক্রীড়াক্ষেত্রেও এই দূরত্ব অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, SAFF উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানো শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের প্রতিফলন। ক্রীড়া যেখানে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য গড়ে তোলার মাধ্যম হতে পারত, সেখানে আবারও তা রাজনৈতিক টানাপড়েনের শিকার হলো।




















