মুম্বই: প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরতলিতে ব্যাংকিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া লক্ষ লক্ষ ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্ট (বিসি)-দের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)। সোমবার আরবিআই নতুন খসড়া নিয়ম প্রকাশ করা হয়েছে৷ তাতে তাদের কাজের চাপ ও দায়িত্ব অনুযায়ী দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করার এবং কমিশন/পারিশ্রমিকে একরূপতা আনার প্রস্তাব করেছে।
এই পদক্ষেপকে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন) আরও মজবুত করার একটি বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে বিসি-দের কমিশনের হার আলাদা আলাদা, কোনও সুস্পষ্ট শ্রেণিবিভাগ নেই। নতুন নিয়ম চালু হলে তাদের আয় আরও ন্যায্য ও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন শ্রেণিবিভাগ কেমন হবে?
আরবিআইয়ের খসড়ায় গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র বা ‘ডেলিভারি পয়েন্ট’-কে তিনটি স্পষ্ট বিভাগে ভাগ করা হয়েছে:
ব্যাংক শাখা
- বিজনেস করেসপন্ডেন্ট – ব্যাংকিং আউটলেট (BC-BO): ফিক্সড পয়েন্টে স্থায়ীভাবে পরিষেবা দেবে। এখানে নির্দিষ্ট (ফিক্সড) ও লেনদেনভিত্তিক (ভ্যারিয়েবল) দুই ধরনের পারিশ্রমিক থাকবে।
- বিজনেস করেসপন্ডেন্ট – ব্যাংকিং টাচপয়েন্ট (BC-BT): শুধুমাত্র লেনদেনভিত্তিক (ভ্যারিয়েবল) পারিশ্রমিক পাবেন।
- এছাড়া, বিজনেস ফ্যাসিলিটেটর (BF)-দেরও এখন একই বিসি মডেলের আওতায় আনা হবে।
কেন এই পরিবর্তন দরকার?
২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত সারা দেশে ১৬ লক্ষেরও বেশি ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্ট কাজ করছেন। তারা গ্রামাঞ্চলে অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা জমা-তোলা, লোন সংক্রান্ত সেবা, সরকারি সুবিধা বিতরণসহ নানা কাজ করেন। কিন্তু আয়ের অসমতা ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে এই কাজ ছেড়ে দেন। নতুন নিয়মে ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-কে মাসিক বেতনের একটি বেঞ্চমার্ক স্ট্রাকচার তৈরি করতে বলা হয়েছে, যা বাইরের সূচকের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি, গ্রাহক সন্তুষ্টিকেও পারিশ্রমিকের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
যোগ্যতা সহজ করা হচ্ছে
নতুন খসড়ায় বিসি নিয়োগের যোগ্যতার মানদণ্ডও সহজ করার প্রস্তাব রয়েছে। এটি একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। কমিটিতে আরবিআই, ডিপার্টমেন্ট অফ ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস (ডিএফএস), আইবিএ এবং নাবার্ড-এর কর্মকর্তারা ছিলেন।
আরবিআই ফেব্রুয়ারি মাসের মুদ্রানীতিতে এই পরিবর্তনের ঘোষণা করেছিল। এখন খসড়া নিয়মের ওপর জনসাধারণ, ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত চাওয়া হয়েছে। ৫ মে, ২০২৬-এর মধ্যে মতামত জানানো যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংস্কার পুরোপুরি কার্যকর হলে প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাংকিং সেবা আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার হয়ে উঠবে। লক্ষ লক্ষ বিসি-র আয় বাড়লে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গতিও ত্বরান্বিত হবে।
তদন্ত ও চূড়ান্ত নিয়ম জারির পর বিস্তারিত আপডেট জানা যাবে। এই খসড়া বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




















