কলকাতা: তৃণমূলের দফতরে বসে গুজরাতিদের কটূক্তি করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। (Bhabanipur)শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। এদিকে তারপর পরই ক্ষমা চেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন আবহে এবার উল্টো চাল দেওয়ার চেষ্টা তৃণমূলের। এলাকার অভিজাত অঞ্চলের আধুনিক উঁচু ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে দলের কর্মীরা এখন নিয়মিত যাচ্ছেন। এখানকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী। অনেকে গুজরাতি ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় বসবাস করছেন।
তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরনও একেবারে আলাদা।তৃণমূলের নেতারা বলছেন, এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলতে হলে কর্পোরেট সিনিয়র প্রফেশনালদের সঙ্গে যেভাবে আলোচনা করা হয়, ঠিক সেই স্টাইলে যেতে হবে। ইংরেজিতে কথা বলা, উন্নয়নের পরিকল্পনা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা, শহরের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এসবই এখন প্রচারের মূল অংশ। দলের কর্মীরা ফ্ল্যাটের রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মিটিং করছেন, চা-কফির আড্ডায় বসছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলছেন।
আরও দেখুনঃ নিজের সার্ভিস বন্দুক থেকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী বিএসএফ জওয়ান
সম্প্রতি মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্যের পর গুজরাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল দ্রুত ক্ষমা চেয়ে এবং গুজরাতি ভাষায় ওয়াল রাইটিং করে সেই ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছে। ওয়ার্ড ৭০-এর কাউন্সিলর অসীম বসু গুজরাতি সম্প্রদায়ের কাছে ভিডিয়ো বার্তায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও জানিয়েছে, মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য দলের অবস্থান নয়। এখন তারা গুজরাতি ভোটারদের আশ্বস্ত করতে বিশেষ জোর দিচ্ছে।
ভবানীপুরে গুজরাতি ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ওয়ার্ড ৭১ ও ৭২-এ তাঁদের প্রভাব বেশি। এঁরা মূলত ব্যবসায়ী, যাঁরা শহরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “এখানে প্রচার সাধারণ মানুষের মতো নয়। এঁরা শিক্ষিত, সচ্ছল এবং ব্যবসায়িক মনোভাবাপন্ন। তাই আমরা উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, ব্যবসার পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছি। ইংরেজিতে কথা বলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিজেপি এই ইস্যুকে সামনে রেখে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। নেতারা বলছেন, তৃণমূলের মধ্যে গুজরাতি-বিরোধী মনোভাব রয়েছে। এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব গুজরাতি সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন করেছেন যাতে তাঁরা তৃণমূলকে বয়কট করেন। বিজেপির একটি অংশ মনে করে, এই এলাকায় কর্পোরেট ব্যাকগ্রাউন্ডের কোনো নেতা বা গুজরাত বিজেপির কোনো প্রতিনিধিকে প্রচারে যুক্ত করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।




















