চুঁচুড়া: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। (Subir Nag)ঠিক এই আবহেই চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ একেবারে অন্যভাবে প্রচারে নজর কাড়লেন। রবিবারের সকালেই হাতে বাজারের থলি নিয়ে স্থানীয় মল্লিক কাসেম হাট বাজারে পৌঁছে গেলেন তিনি। উদ্দেশ্য একদিকে নিজের নিত্যদিনের বাজার করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।
বাজারে ঢুকতেই দেখা যায়, একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই শাক-সবজি থেকে শুরু করে মাছের দোকান ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করছেন সুবীরবাবু। চিংড়ি, পাবদা, কাতলা সব ধরনের মাছের দোকানেই তাঁকে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে দেখা যায়। বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম, ক্রেতাদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা সব মিলিয়ে একেবারে ঘরোয়া পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই এগিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন, কেউ নিজেদের সমস্যা জানান, কেউ আবার শুধুই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আরও দেখুনঃ FA Cup: হাল্যান্ডের হ্যাটট্রিকে লিভারপুল বিধ্বস্ত, এফএ কাপে সিটির দাপুটে জয়
এই জনসংযোগ কর্মসূচির মধ্যেই উঠে আসে রাজনৈতিক বার্তাও। মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বিজেপিকে ঘিরে যে বিতর্ক ও কটাক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, সেই প্রসঙ্গেই সরব হন সুবীর নাগ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি নিজে ৪০ বছর ধরে এই বাজারে আসি। ছোটবেলা থেকেই মাছ-মাংস খাই। আজও সেই অভ্যাস আছে। যারা বলেন বিজেপি এলে এসব বন্ধ হয়ে যাবে, তারা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।”
তাঁর এই মন্তব্যে কার্যত বিরোধীদের ‘আমিষ বিরোধী’ তকমাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, “বাঙালি মানেই মাছে-ভাতে বাঙালি। এই সংস্কৃতি, এই খাদ্যাভ্যাস আমাদের পরিচয়ের অংশ। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে কোনও বাধা আসবে না, বরং মানুষ আরও স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দমতো খাবার খেতে পারবে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও চাহিদার কথা শোনেন তিনি। বাজারের পরিকাঠামো, দাম বৃদ্ধি, ক্রেতা কমে যাওয়া এই সব বিষয় উঠে আসে আলোচনায়। সুবীরবাবু আশ্বাস দেন, নির্বাচনে জয়ী হলে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিনের এই প্রচারে রাজনৈতিক কৌশলও স্পষ্ট। বড় মঞ্চ বা মিছিলের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে ঢুকে গিয়ে যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছেন তিনি। এতে যেমন একদিকে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়, তেমনই অন্যদিকে নিজের ‘ঘরের ছেলে’ ইমেজটাও তুলে ধরতে সক্ষম হচ্ছেন।
চুঁচুড়ার রাজনীতিতে এই ধরনের প্রচার নতুন নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতি এখন বাংলার নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত বিষয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মাছ কিনে, বাজার করে এবং নিজে আমিষভোজী বলে প্রকাশ্যে জানিয়ে সুবীর নাগ কার্যত একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন।




















