ভবানীপুর: অমিত শাহের রোড-শো চলাকালীন প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)৷ কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না৷
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ সাসপেন্ড করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়৷ এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷
নির্দেশে বলা হয়েছে, ৫ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে এই পদক্ষেপ কার্যকর করার রিপোর্ট জমা দিতে হবে৷ শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে৷ কমিশনের লক্ষ্য, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলার কোনও ঘাটতি যেন না থাকে৷
ঘটনার সূত্রপাত হয় ভবানীপুর এলাকায় বিজেপির একটি রোড-শো থেকে৷ হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া রোড-শো কালীঘাট এলাকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে৷ পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার ঘটনা প্রশাসনিক ত্রুটি প্রকাশ করে৷
তৃণমূল অভিযোগ করেছে, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে৷ সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে৷ অন্যদিকে বিজেপি জানায়, তাদের রোড-শো শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে প্রশাসনের তৎপরতার অভাবে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে৷
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না৷ কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব পালনেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন৷




















