ভারত তার পুরনো পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্রকে একটি নতুন, আধুনিক ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে (Prithvi Missile Replacement)। ডিআরডিও পরবর্তী প্রজন্মের একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর কাজ শুরু করেছে, যা অবশেষে পুরো পৃথ্বী সিরিজকেই প্রতিস্থাপন করতে পারে।
পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্র কী?
পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ভারতের প্রথম দিকের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি, যা ১৯৮০-এর দশকে তৈরি করা হয়েছিল। পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১৫০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার এবং এটি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী উভয়ই ব্যবহার করে।
এর সবচেয়ে বড় অসুবিধা কী?
তবে, ক্ষেপণাস্ত্রটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর তরল জ্বালানি ব্যবস্থা। উৎক্ষেপণের আগে এতে জ্বালানি ভরতে হয়। এটি সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ এবং আজকের দ্রুতগতির যুদ্ধ পরিবেশে এটিকে একটি বড় অসুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই কারণে, ডিআরডিও এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণ হবে দ্রুততর, নির্ভুলতা হবে বেশি এবং টিকে থাকার ক্ষমতা হবে উন্নত। এটি তরল জ্বালানির পরিবর্তে একটি উন্নত চালনা ব্যবস্থা ব্যবহার করবে, যা উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে।
পৃথ্বীর বিকল্প কে হবে?
আগে ধারণা করা হতো যে, পৃথ্বীর সরাসরি বিকল্প হবে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র। প্রলয় একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি উড্ডয়নকালে দিক পরিবর্তন করে শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিআরডিও একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে যা সম্পূর্ণ ‘পৃথ্বী’ সিরিজকে প্রতিস্থাপন করবে।
তাহলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কেন?
নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য থাকবে: এটি ৫০০ কেজি থেকে ১০০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম হবে। এর ফলে এটিকে বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহার করা যাবে। অধিকন্তু, এটিকে বিদ্যমান পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সাথে নির্বিঘ্নে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হবে। এতে পুরনো ক্ষেপণাস্ত্রটি পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া এবং নতুনটি অন্তর্ভুক্ত করার সময় ও ঝামেলা কমে যাবে।
এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভারতের কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা অনুযায়ী একটি দ্রুততর, নিরাপদ ও অধিক কার্যকর ব্যবস্থা প্রদান করবে।




















