Home Bharat শত্রুর ঘুম উড়াতে প্রস্তুত ভারতের তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন! নৌসেনায় জুড়ছে ‘অরিধমন’

শত্রুর ঘুম উড়াতে প্রস্তুত ভারতের তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন! নৌসেনায় জুড়ছে ‘অরিধমন’

After PM Modi’s Signal, All Eyes on Today’s Crucial Cabinet Meeting
After PM Modi’s Signal, All Eyes on Today’s Crucial Cabinet Meeting

বিশাখাপত্তনম: জলপথে শত্রুর ঘুম উড়াতে এবার ভারতীয় নৌসেনায় যুক্ত হতে চলেছে দেশের তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘আইএনএস অরিধমন’। শুক্রবার এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি সাঙ্কেতিক পোস্ট করে খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। তিনি লিখেন, “এটি নিছক কোনও শব্দ নয়, এটি শক্তির প্রতীক! ‘অরিধমন’।” সূত্রের খবর, শুক্রবারই এই সাবমেরিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

পাশাপাশি, এদিন বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক স্টিলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি’-র আনুষ্ঠানিক কমিশনিং অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন রাজনাথ সিং।

   

কতটা শক্তিশালী এই ‘অরিধমন’?

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আইএনএস অরিধমন হল ভারতের অত্যন্ত গোপনীয় পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্পের তৃতীয় রূপায়ণ। এর আগে ২০১৬ সালে ‘আইএনএস অরিহন্ত’ এবং ২০২৪ সালের আগস্টে ‘আইএনএস অরিঘাত’ নৌসেনায় যুক্ত হয়েছিল।

প্রায় ৭,০০০ টন ওজনের এই সাবমেরিনটি আগের দুটির তুলনায় সামান্য বড় এবং শত্রুর রাডার ফাঁকি দিতে এর নকশায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের তৈরি আপগ্রেডেড ৮৩ মেগাওয়াট প্রেশারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর দ্বারা এটি পরিচালিত।

অরিহন্তের তুলনায় এতে দ্বিগুণ অর্থাৎ আটটি ভার্টিকাল লঞ্চ টিউব রয়েছে। এটি একসঙ্গে ৩,৫০০ কিমি পাল্লার ৮টি কে-৪ (K-4) মিসাইল অথবা ৭৫০ কিমি পাল্লার ২৪টি কে-১৫ (K-15) মিসাইল বহন করতে সক্ষম।

কেন এই সাবমেরিন গেম-চেঞ্জার? INS Aridhaman submarine

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্রবাহী এই সাবমেরিন ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ বা দ্বিতীয় আঘাত হানার ক্ষমতাকে সুনিশ্চিত করবে। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষ যদি স্থলভাগে বা বায়ুসেনার ঘাঁটিতে পারমাণবিক হামলা চালায়, তাহলেও সমুদ্রের গভীর থেকে এই সাবমেরিন শত্রুর ওপর পাল্টা চরম ধ্বংসাত্মক আঘাত হানতে সক্ষম। নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী আগেই জানিয়েছিলেন যে, এপ্রিল-মে মাসেই এটি নৌসেনায় যুক্ত হতে পারে। এই সাবমেরিনটি অন্তর্ভুক্ত হলে সমুদ্রে ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা এক অন্য মাত্রায় পৌঁছবে।

নৌসেনার শক্তি বাড়াচ্ছে ‘তারাগিরি’

অন্যদিকে, এদিনই নৌসেনার প্রথম সারিতে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘তারাগিরি’। রাডারে সহজে ধরা না পড়ার ক্ষমতা এবং দ্রুতগতির এই যুদ্ধজাহাজটি মাল্টি-ডাইমেনশনাল সামুদ্রিক অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর। সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল থেকে শুরু করে মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল এবং উন্নত অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার স্যুটে সজ্জিত এই জাহাজটি, ভারতের আত্মনির্ভরতা এবং ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তির এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে।

Follow on Google