কালিয়াচক-কাণ্ড: কী বললেন ডিআইজি?

Malda Mothabari attack NIA probe

নয়াদিল্লি: মালদহের মোথাবাড়িতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের কাজে যুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি তদন্তে নামছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। শুক্রবার দুপুরের পরই মোথাবাড়ি থানায় পৌঁছচ্ছে এনআইএ-র একটি বিশেষ দল। অন্যদিকে, এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনকে চরম ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ‘ভেঙে পড়েছে’ বলে কড়া মন্তব্য করার পাশাপাশি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতির অভিযোগে রাজ্যের পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে শো-কজ নোটিশ ধরিয়েছে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী ৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল শুনানিতে তাঁদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের ডিআইজি বলেন, কোনও রকম বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না৷ এই ঘটনায় মোট ১৯টি মামলা হয়েছে৷

সেই সঙ্গে খোদ এডিজি (উত্তরবঙ্গ) স্বীকার করে নেন যে, সেদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বিচারকদের উদ্ধার করতে সত্যিই পুলিশের বেশ কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল।

   

 মূল কারণ কী?

পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে মূল চক্রী ছিল সদ্য ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম। ঘটনার দিন উত্তেজিত জনতাকে লাগাতার উসকানি দিচ্ছিলেন তিনি। তাঁর প্ররোচনাতেই সাধারণ মানুষ মারমুখী হয়ে ওঠে। বিশাল জমায়েত ও উগ্র অবরোধের কারণেই পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিআইপি-দের নিরাপদ স্থানে সরাতে চরম বেগ পেতে হয় প্রশাসনকে।

কেন এনআইএ তদন্ত? Malda Mothabari attack NIA probe

প্রাথমিকভাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সিবিআই তদন্তের কথা বললেও, পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতেই তুলে দেওয়া হবে। সেদিনের ওই বর্বরোচিত হামলার নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করার পরও কেন আধিকারিকদের জায়গা বদল করা হয়নি, মূলত এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখবে এনআইএ। আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে তারা। প্রসঙ্গত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও স্পষ্ট জানিয়েছেন, জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব।

ধৃত আইএসএফ প্রার্থী-সহ ১৮

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে গত বুধবার মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসের গেট আটকে ৮ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত জনতা। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি-সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

বুধবারের ওই তাণ্ডব এবং লাগাতার অবরোধের জেরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পণ্যবাহী গাড়ির যে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিষ্কার। প্রশাসন সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং কালিয়াচক এলাকার পরিস্থিতি আপাতত শান্ত এবং যান চলাচল স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। তবে নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।