ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনায় নতুন মোড়। আমেরিকা এয়ার ফোর্স অন্তত ১৮টি বিখ্যাত এ-১০সি (A-10 deployment)থান্ডারবোল্ট আক্রমণ বিমানকে পশ্চিম এশিয়ার দিকে পাঠাচ্ছে। এই ‘ওয়ারহগ’ নামে পরিচিত বিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে চলতে থাকা ‘অপারেশন ইপিক ফিউরি’-তে যোগ দেবে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মোতায়েন শুধু সমুদ্রপথে নয়, সম্ভাব্য স্থল অভিযানেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।এ-১০ বিমানটি আকাশ থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি।
এর ৩০ মিলিমিটারের গাউলিং গান ‘ব্রররর্ট’ শব্দে শত্রুর ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান ও স্থল অবস্থান মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে। যদিও এই বিমানগুলোকে অনেকে ‘পুরনো’ বলে অবসরে পাঠানোর কথা বলছিলেন, কিন্তু বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এখনও এর কার্যকারিতা অসামান্য। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি দ্রুতগামী নৌযান ও উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুর উপর এ-১০-এর আক্রমণ দেখা গেছে। এখন আরও ১৮টি বিমান যোগ হলে মার্কিন বাহিনীর স্থল সমর্থন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
আরও দেখুনঃ ইরানের দিকে রওনা দিল ১৮টি এ-১০ বিমান! আজই শুরু সার্জিক্যাল স্ট্রাইক
সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই বিমানগুলো ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে রওনা হয়েছে। কয়েকটি ইতিমধ্যে রয়্যাল এয়ার ফোর্স লেকেনহিথে অবতরণ করেছে এবং সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করবে। সঙ্গে রয়েছে কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, যা মাঝপথে জ্বালানি সরবরাহ করবে। এই মোতায়েনের সঙ্গে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সৈন্য ও মেরিনদের প্রস্তুতিও বাড়ছে। এতে স্পষ্ট যে, আমেরিকা শুধু আকাশপথে নয়, প্রয়োজনে স্থল অভিযানের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা অফিসার বলেন, “এ-১০ হলো স্থলসেনাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। যখন সৈন্যরা মাটিতে লড়ছে, তখন আকাশ থেকে এই বিমান এসে শত্রুর অবস্থান ধ্বংস করে দেয়। ইরানের ক্ষেত্রে যদি স্থল অভিযান হয়, তাহলে এ-১০-এর ভূমিকা অপরিহার্য।” অন্যদিকে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি নৌবাহিনীর তৎপরতা বন্ধ করতে এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দমন করতে এই বিমানগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন এ-১০-এর মতো ‘ফ্লাইং ট্যাঙ্ক’ বিমান মোতায়েন দেখে মনে হচ্ছে যুদ্ধ আর শুধু আকাশ বা সমুদ্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যদি স্থল অভিযান শুরু হয়, তাহলে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনাদের প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে পুরো অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠতে পারে। সৌদি আরব, ইসরায়েলসহ মার্কিন মিত্র দেশগুলো এই প্রস্তুতিতে সায় দিচ্ছে বলে খবর।




















