পূর্বমেদিনীপুর: নন্দীগ্রামে আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিজেপির মাইনরিটি মোর্চার সদস্যদের উপর অকথ্য অত্যাচার হচ্ছে (Nandigram)। এই অভিযোগেই তৃণমূলকে বিদ্ধ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের সামাজিকভাবে বয়কট করছে তৃণমূল। এমনকি তাদের খাবার জল পর্যন্ত বন্ধ করে দিচ্ছে তারা এমনটাই অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, নন্দীগ্রামের কিছু এলাকায় বিজেপির সংখ্যালঘু কর্মীদের উপর পরিকল্পিতভাবে সামাজিক বয়কট করা হচ্ছে। শুধু সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আরও দেখুনঃ এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার! ফের দুর্যোগের কবলে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজে ভেকুটিয়া অঞ্চলের দেওয়ান চক গ্রামে যান এবং বিজেপি মাইনরিটি মোর্চার সদস্য রাকিবুল সহ অন্যান্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, “ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজের মত, বিশ্বাস ও রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। বিজেপি করা কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু সেই অধিকারকে খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সরাসরি সংবিধানের বিরোধিতা।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই সংকীর্ণ রাজনীতির আশ্রয় নিয়ে বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। নন্দীগ্রামের এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি এই ঘটনাকে “মধ্যযুগীয় বর্বরতা” বলে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, এর বিরুদ্ধে বিজেপি চুপ করে থাকবে না।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘাতের মাত্রা বাড়ছে। নন্দীগ্রামের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।




















