কলকাতা: বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Rahul arunoday Banerjee) অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজ্য। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু যেন নাড়িয়ে দিল টলিউড থেকে ক্রীড়ামহল সবাইকে। অভিনেতা, লেখক-বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রাহুল ছিলেন প্রাণখোলা মানুষ, আর ঠিক পাঁচটা সাধারণ বাঙালির মতোই ফুটবল ছিল তাঁর আবেগের জায়গা ।ঘোষিতভাবেই তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল-এর একনিষ্ঠ সমর্থক। লাল-হলুদ শিবিরের উন্নতি নিয়ে তিনি নিয়মিত চিন্তা করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে নিজের মতামতও প্রকাশ করেছেন। এমনকি তাঁর জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘সহজ কথা’র শেষ পর্বেও উঠে এসেছিল প্রিয় ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা।
রবিবার শুটিংয়ের কাজে ওডিশার তালসারিতে গিয়েছিলেন রাহুল। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের কাজ চলছিল সেখানে। শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি সমুদ্রে নামেন। সেই সময় আচমকাই জোয়ার চলে আসে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জলে তলিয়ে যান অভিনেতা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও, পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক নেমে এসেছে তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীদের মধ্যে। রাহুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকবার্তা জানায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাজীবন লাল-হলুদের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে রাহুল তাঁদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ক্লাব গভীরভাবে শোকাহত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জীবনের শেষ পডকাস্টেও রাহুলের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ‘সহজ কথা’ পডকাস্টে তাঁর অতিথি হিসেবে এসেছিলেন অভিনেতা ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেই আলোচনায় উঠে আসে ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নতির পথ এবং কর্তৃপক্ষের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা। শুক্রবার প্রকাশিত সেই পর্বের কয়েকদিনের মধ্যেই এই দুঃসংবাদে স্তব্ধ হয়ে যায় তাঁর অনুরাগীরা। রাহুলের এই আকস্মিক প্রয়াণ শুধু বাংলা চলচ্চিত্র জগত নয়, রাজনৈতিক মহল ও ক্রীড়াদুনিয়াতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। বামমনস্ক চিন্তাধারার জন্য পরিচিত এই অভিনেতার মৃত্যুতে নানা মহল থেকে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর কাজ, একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে তাঁর বক্তব্য এবং একজন নিবেদিত সমর্থক হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা—সব মিলিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আজ স্মৃতিতেই রয়ে গেলেন। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন আর প্রিয় ক্লাবের উন্নতির আকাঙ্ক্ষা এখন বহন করে নিয়ে চলবে তাঁর অনুরাগীরাই।




















