নয়াদিল্লি: উত্তরাখণ্ডে আসন্ন চারধাম যাত্রা ২০২৬-কে ঘিরে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। (Char Dham Yatra)প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমনে জমজমাট হয়ে ওঠে এই ঐতিহাসিক তীর্থযাত্রা। আর সেই বিপুল ভিড় সামাল দিতে এবার আগাম বড়সড় পরিকল্পনা নেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে খাদ্য সরবরাহ এবং রান্নার জ্বালানির চাহিদা মেটাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, এবারের যাত্রা উপলক্ষে প্রায় ২০ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই বিপুল চাহিদা পূরণের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে। মূলত যাত্রাপথের সাতটি জেলাজুড়ে এই সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে এলপিজির সংকটে দিন কাটছে দেশের সাধারণ মানুষের। গৃহস্থালির রান্না থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ব্যবসা সব কিছুই প্রভাবিত হয়েছে এই সংকটে। এই আবহে সরকার কিভাবে এই চাহিদা পূরণ করে সেটাই দেখার।
প্রতি বছরই চারধাম যাত্রার সময় হোটেল, রেস্তোরাঁ, ধাবা এবং অস্থায়ী খাদ্যকেন্দ্রগুলিতে রান্নার জন্য এলপিজির ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে যায়। হাজার হাজার ভক্তের জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাবার প্রস্তুত করতে হয়। ফলে জ্বালানির সরবরাহে কোনও ঘাটতি যাতে না হয়, সে দিকেই বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন।
গত বছরের তুলনায় এবারের চাহিদা অনেকটাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের যাত্রা মরশুমে প্রায় ১৬ লক্ষ সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু এবছর তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যার ফলে এলপিজির চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শুধু সিলিন্ডারের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, তার সঠিক বণ্টন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। পাহাড়ি রাস্তা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম এলাকার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বড় তীর্থযাত্রায় শুধু ধর্মীয় দিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানীয় ব্যবসা, পর্যটন এবং পরিবহন খাত এই সময় ব্যাপকভাবে লাভবান হয়। ফলে এলপিজি সরবরাহের মতো বিষয়গুলি সরাসরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন দেশের এই মুহূর্তে এলপিজি সংকটে এত বড় চাহিদা পূরণ করলে দেশের মানুষের দৈনিন্দিন জীবনে তার প্রভাব পড়তে পারে।



















