Home Bharat মহাকাশে ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন! ১,৭৬৩ কোটি টাকার বাজেট পেল ইসরোর

মহাকাশে ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন! ১,৭৬৩ কোটি টাকার বাজেট পেল ইসরোর

ISS

মহাকাশ জগতে ভারত এক বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তাদের প্রথম মহাকাশ স্টেশনের কাজ শুরু করেছে (India First Space Station Budget)। সরকার এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১,৭৬৩ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। ভারতীয় আন্তর্জাতিক স্টেশন (বিএএস) নামক এই প্রকল্পটি ভারতকে মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে।

- Advertisement -

এই মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কক্ষপথে নির্মিত হবে। এটি কয়েকটি মডিউল নিয়ে গঠিত হবে, যার মধ্যে প্রথমটি হবে বিএএস-০১।২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন করে উৎক্ষেপণ করাই লক্ষ্য। এই মডিউলটি নভোচারীদের বাসস্থান এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হবে।

   

মহাকাশ স্টেশন কী কী সুবিধা দেবে?
এই প্রকল্পটিকে ভারতের গগনযান মিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে নভোচারীদের স্বল্প সময়ের জন্য মহাকাশযানে পাঠানো হবে। এদিকে, বিএএস দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য প্রস্তুতি নেবে। এই মহাকাশ স্টেশনটির নির্মাণ ভারতের জন্য বহুবিধ সুবিধা বয়ে আনবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভারতকে তার গবেষণা-নিরীক্ষার জন্য আর অন্য দেশের মহাকাশ স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হবে না। এছাড়াও, বিজ্ঞানীরা মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে নতুন ওষুধ, পদার্থ বিজ্ঞান এবং উন্নত উৎপাদন সম্পর্কিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে সক্ষম হবেন।

মহাকাশ স্টেশনে কী থাকবে?
বিএএস-এ আরও বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তি থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে মহাকাশযানের জন্য একটি ডকিং সিস্টেম, একটি রোবোটিক আর্ম, কক্ষপথে জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা এবং ক্রুদের থাকার জন্য একটি বিশেষ মডিউল। ভারত ইতিমধ্যেই স্পাডেক্স মিশনের মতো অভিযানের মাধ্যমে ডকিং প্রযুক্তি সফলভাবে পরীক্ষা করেছে, যা এই প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করেছে।

বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে
এই মিশনে বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আগ্রহ চেয়েছে।

ভারতের অভিজ্ঞতা আছে
ভারত ইতিমধ্যেই চন্দ্রযান-৩ এবং আদিত্য-এল১-এর মতো অভিযানের মাধ্যমে তার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিনের মতো দেশগুলোর কাতারে যোগ দেবে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রথম বিএএস মডিউলটি মহাকাশে পৌঁছাবে। এটি হবে ভারতের ‘মহাকাশ স্বাধীনতার’ পথে এক বিরাট পদক্ষেপ।

Follow on Google