কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অভিজিৎ পালকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Basanti clash)। গতকাল ২৬ মার্চ বসন্তী বাজার এলাকায় বিজেপির প্রচার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাসন্তী বাজার। তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে বেঁধে যায় খন্ডযুদ্ধ। এই খণ্ডযুদ্ধে বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ এবং পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশের আগাম প্রস্তুতির অভাব এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে ইন্সপেক্টর অভিজিৎ পালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার বাসন্তী বাজার এলাকায় প্রচার করার সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে যে, তৃণমূল কর্মীরা ওই প্রচারের ভিডিওগ্রাফি করছিলেন, যা নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে বচসা ও পরে হাতাহাতি শুরু হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একজন সাব-ইন্সপেক্টরসহ অন্তত ৮ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন এবং ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ শীঘ্রই ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে সেনা, বড় প্রস্তুতি ভারতের
নির্বাচন কমিশনের এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “ইন্সপেক্টর অভিজিৎ পাল, বসন্তী থানার ইনচার্জ, আগে থেকেই দুটি রাজনৈতিক দলের জনসভা ও কর্মসূচির খবর পেয়েও যথাযথ পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) তাঁর এলাকায় মোতায়েন ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য CAPF-কে রিকোয়েশন করেননি। এটি তাঁর গুরুতর গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ।”

গতকাল বসন্তী বাজারে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। ইট-পাটকেল, লাঠি এবং ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে বলে খবর। সংঘর্ষে অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশকর্মীও রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু ততক্ষণে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে যখন দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি একই এলাকায় একই সময়ে ছিল, তখন পুলিশের উচিত ছিল আগে থেকেই পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা। ইন্সপেক্টর অভিজিৎ পাল এই দুটি বিষয়েই ব্যর্থ হয়েছেন বলে কমিশন মনে করছে।সাসপেনশনের আদেশে বলা হয়েছে, অভিজিৎ পালকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। তদন্তে যদি আরও গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।




















