উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আবারও উদ্বেগ। (Split India Mission)মিজোরাম পুলিশ সিয়াহা জেলার লাকি গ্রামের কাছে মায়ানমার সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় একজন ৫৮ বছর বয়সী স্লোভাক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। অসম রাইফেলসের জওয়ানরা তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই গ্রেফতারকে ‘স্প্লিট ইন্ডিয়া মিশন’ নামে পরিচিত একটি বিতর্কিত অভিযানের বিরুদ্ধে একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার। স্লোভাক নাগরিকটি বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ছাড়াই সীমান্তের দিকে এগোচ্ছিলেন। তিনি দাবি করেছেন যে, মায়ানমারে একটি জল উৎসবে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সন্দেহ অন্য কথা বলছে। তাঁর পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বর্তমানে তিনি সিয়াহা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীরা তাঁর মোবাইল, ডিজিটাল ডিভাইস এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন।
আরও দেখুনঃ আবুধাবিতে ভয়ঙ্কর আক্রমণ! নিহত ভারতীয় নাগরিক
এই গ্রেফতারের প্রেক্ষাপটে রয়েছে আরও একটি সাংঘাতিক ঘটনা। মাত্র কয়েকদিন আগে, ১৩ মার্চ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) দেশের তিনটি বিমানবন্দর থেকে ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং একজন আমেরিকান নাগরিককে গ্রেফতার করে। আমেরিকানের নাম ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইক।
এনআইএ-র অভিযোগ, এই সাতজন পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে মিজোরামে প্রয়োজনীয় প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট (পিএপি) ছাড়াই প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা অবৈধভাবে মায়ানমারে প্রবেশ করে সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ড্রোন যুদ্ধ, অস্ত্র চালনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেন। ইউরোপ থেকে আনা ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলির কিছু ভারত-বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, মিজোরামকে এই বিদেশি নাগরিকরা ‘সফট লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করে দেশকে ‘ভাগ’ করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই কার্যকলাপকে দেখা হচ্ছে। ‘স্প্লিট ইন্ডিয়া মিশন’ নামটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি শক্তির মদতে কিছু গোষ্ঠী উত্তর-পূর্বের জাতিগত উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে ভারতের অখণ্ডতায় আঘাত হানার চেষ্টা করছে।




















