
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar)। সর্বদলীয় বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “ভারত কোনওভাবেই ‘দালাল রাষ্ট্র’ হিসেবে কাজ করবে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার সংসদে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন , পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল পশ্চিম এশিয়ার ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা পরিস্থিতি এবং সেখানে ভারতের অবস্থান।
এই বৈঠক এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হল, যখন পাকিস্তান নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ প্রস্তুত এবং সম্মানিত বোধ করছে। তিনি জানান, দুই দেশের সম্মতি মিললে পাকিস্তান আলোচনার আয়োজন করতেও রাজি।
এই বক্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। জানা যায়, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক মিলিতভাবে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন রিপোর্টে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে “খুবই ইতিবাচক” আলোচনা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে এতে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
বর্তমানে এই সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতির সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই। এরপরই শুরু হয় পাল্টা আঘাত, যা দ্রুতই বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, ভারত কোনও পক্ষের হয়ে মধ্যস্থতা করবে না, বরং নিজস্ব কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে। তাঁর মতে, ভারতের ভূমিকা হওয়া উচিত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, কিন্তু কোনওভাবেই ‘দালাল’ হিসেবে নয়।

