নয়াদিল্লি: ভারতের অলিতে-গলিতে চায়ের দোকানে আড্ডা বা ‘চায়ে পে চর্চা’র যে সংস্কৃতি, তাতে এবার ভাগ বসাল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র আকাল এবং অগ্নিমূল্যের জেরে দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার ছোট চায়ের দোকান ও রাস্তার ধারের খাবারের স্টল। পরিসংখ্যান বলছে, সিলিন্ডার না পেয়ে কাজ হারিয়ে দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
ভাদনগর থেকে বারাণসী: সংকটে সেই ‘চায়ের দোকান’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জীবনের শুরু হয়েছিল গুজরাতের ভাদনগর স্টেশনে বাবার চায়ের দোকানে সাহায্য করে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাঁর ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ক্ষুদ্র চা বিক্রেতারাই সবথেকে অসহায়। ন্যাশনাল হকার্স ফেডারেশনের উদ্বেগজনক রিপোর্ট অনুযায়ী, লজিস্টিক সংকট ও জোগানে টান পড়ায় স্ট্রিট ভেন্ডারদের ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ছোট সিলিন্ডারের দাম আকাশছোঁয়া
রাস্তার ধারের ছোট দোকানগুলিতে সাধারণত ৩ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে যে সিলিন্ডার ১০০ টাকার আশেপাশে মিলত, কালোবাজারির দাপটে বর্তমানে তার দাম ঠেকেছে ৩৫০ টাকায়। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনায় এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকারের কড়া অভিযানের ফলে খোলা বাজারে ছোট সিলিন্ডারের হাহাকার তৈরি হয়েছে। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই বা আমেদাবাদের মতো বড় শহর তো বটেই, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও ঝাঁপ বন্ধ হচ্ছে একের পর এক দোকানের।
মোদীর উদ্বেগ ও ঐক্যের ডাক
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, জ্বালানি সংকট যাতে ভয়াবহ রূপ না নেয়, তার জন্য এলপিজি আমদানি ও উৎপাদন উভয়ই বাড়ানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে মতভেদ ভুলে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভারতবাসীর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা সকলকে মিলে মোকাবিলা করতে হবে।
বাস্তব চিত্র অবশ্য বলছে, সরকারি আশ্বাসে এখনই চিঁড়ে ভিজছে না। চায়ের দোকান বন্ধ হওয়ায় শুধু যে আড্ডায় টান পড়ছে তা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের রুটিরুজি আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।




















