গুরুগ্রাম: গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য আর এজেন্টের পিছনে ছুটতে হবে না। এবার মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটে ATM-এর মতো মেশিন থেকে সরাসরি পূর্ণ সিলিন্ডার হাতে পাবেন গ্রাহকরা। সোমবার গুরুগ্রামের সোহনা এলাকার সেক্টর ৩৩-এ ‘সেন্ট্রাল পার্ক ফ্লাওয়ার ভ্যালি’ সোসাইটিতে ভারতের প্রথম LPG ATM-এর উদ্বোধন করল ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)।
এই LPG ATM দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। BPCL-এর গ্রাহকরা সরাসরি মেশিনের কাছে গিয়ে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ:
- নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিন
- OTP দিয়ে যাচাই করুন
- সিলিন্ডারের বারকোড বা QR কোড স্ক্যান করুন
- UPI বা ডেবিট কার্ডে পেমেন্ট করুন
- মেশিন থেকে পূর্ণ সিলিন্ডার নিন এবং খালি সিলিন্ডার জমা দিন
কম্পোজিট সিলিন্ডারের সুবিধা
এই ATM-এ প্রচলিত ভারী লোহার সিলিন্ডারের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে হালকা কম্পোজিট (ফাইবার) সিলিন্ডার। এগুলোর ওজন সাধারণ সিলিন্ডারের অর্ধেকেরও কম। বর্তমানে ১০ কেজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। মেশিনে একসঙ্গে ১০টি সিলিন্ডার রাখার ক্ষমতা আছে। স্মার্ট সেন্সর সিস্টেমের মাধ্যমে সিলিন্ডার কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটবর্তী গ্যাস এজেন্সিকে সতর্ক করা হয়, যাতে দ্রুত রিফিল হয়।
সোসাইটির বাসিন্দাদের জন্য বড় সুবিধা
সোসাইটির ফ্যাসিলিটি ডেপুটি ম্যানেজার অমিত খাটানা বলেন, “এখন আর এজেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। গভীর রাতে বা ছুটির দিনেও সহজেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র দু’মিনিটে কাজ হয়ে যায়। এই পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে অন্যান্য শহর ও আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”
বাংলার গৃহিণীদের জন্য কী অর্থ বহন করে?
কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর, আসানসোলের মতো শহরে এখনও অনেকেই সিলিন্ডারের জন্য এজেন্টের উপর নির্ভরশীল। বুকিং-এ দেরি, ডেলিভারি না পাওয়া—এসব নিত্যদিনের সমস্যা। BPCL-এর এই LPG ATM যদি সফল হয় এবং অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে গৃহিণীদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে। বিশেষ করে হাই-রাইজ ফ্ল্যাট বা গেটেড কমিউনিটিতে এই ধরনের সুবিধা বড় স্বস্তি দেবে।
এখনই এটি শুধু গুরুগ্রামের BPCL গ্রাহকদের জন্য। কিন্তু যদি পাইলট প্রোগ্রাম সফল হয়, তাহলে কলকাতা বা অন্যান্য মহানগরেও এমন ATM দেখা যেতে পারে।
(এই প্রতিবেদনটি BPCL-এর ঘোষণা, PTI ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি।)




















