এগরা: পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা (Egra) শহরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় জেড়থান এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, তিন যুবক ওই ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও ঘটনার চার দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এই বিলম্ব নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার বিকেলে এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন বিজেপির এগরা বিধানসভা প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী। শ্মশানকালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বিশাল প্রতিবাদ মিছিল এগরার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে শত শত বিজেপি কর্মী-সমর্থক সামিল হন। থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পর পুলিশের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।
দিব্যেন্দুর অভিযোগ: “শাসক দল অভিযুক্তদের আড়াল করছে”
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিব্যেন্দু অধিকারী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “একটি নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে এমন নৃশংস অপরাধ হয়েছে, কিন্তু চার দিনেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। এটা স্পষ্ট যে শাসক দলের মদতে অপরাধীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। এগরার বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতির নামও এই ঘটনায় উঠে এসেছে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা নন্দীগ্রাম-এগরা এলাকার মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আরও বড় আন্দোলন হবে।”
পুলিশের বক্তব্য: “তদন্ত চলছে, শীঘ্রই গ্রেপ্তার”
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। মেয়েটির মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা
এগরা শহরে এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ। অনেকে বলছেন, “মেয়েরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নিরাপদ নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।” বিজেপির এই প্রতিবাদ মিছিলকে অনেকে রাজনৈতিক স্বার্থপ্রণোদিত বললেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হয়েছে।




















