নন্দীগ্রাম: ভোটের (WB Assembly Election) দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। গত রবিবার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী আশদতলা থেকে বয়াল পর্যন্ত মিছিল করে প্রচার শুরু করেন। তার পরের দিনই সোমবার একই রুটে পালটা মিছিল বের করে তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র ও তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক সামিল হন।
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পবিত্র কর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “উনার (শুভেন্দুর) কর্মসূচি উনি করেছেন। দলের নির্দেশ অনুসারে আমরা আজ করেছি। গতকাল কত লোক ছিল আর আজ কত লোক হয়েছে, সবাই দেখতে পেয়েছে। আমরা যা ভেবেছিলাম তার পাঁচগুণ বেশি মানুষ মিছিলে সামিল হয়েছেন। আমরা একশ শতাংশ জিতেই গেছি, শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি নরম ঘাঁটিতে পরিণত হবে নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে।”
একই রুটে দুই দলের মিছিল: কে এগিয়ে?
গতকাল শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু আজ তৃণমূলের মিছিলে কর্মীদের সংখ্যা ও উৎসাহ অনেক বেশি ছিল বলে দাবি দলের নেতা-কর্মীদের। মিছিলে ঢাক-ঢোল, লাল-সবুজ পতাকা, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আশদতলা-বয়াল রুট। তৃণমূলের কর্মীরা দাবি করছেন, এই এলাকায় দলের গ্রাস এখনও অটুট এবং শুভেন্দুর প্রভাব কমতে শুরু করেছে।
নন্দীগ্রামে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের মধ্যে নন্দীগ্রাম প্রথম দফায় (২৩ এপ্রিল) ভোট হবে। এখানে শুভেন্দু অধিকারী ও পবিত্র করের মধ্যে সরাসরি লড়াই হলেও বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীও মাঠে রয়েছেন। তবে মূল লড়াই যে দুই প্রাক্তন সহকর্মীর মধ্যে তা স্পষ্ট। দুই পক্ষের মিছিল দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, “এবার নন্দীগ্রামে ভোটের লড়াই আরও জমে উঠবে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
গ্রামের একাংশ বলছেন, “শুভেন্দুবাবু গতকাল এসেছিলেন, আজ পবিত্রদা এলেন। দুজনেরই ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে লড়াই কঠিন হবে।” অন্যরা মনে করছেন, “তৃণমূলের আজকের মিছিলে লোক বেশি ছিল। কিন্তু ভোটের দিনে কী হয় তা এখনই বলা যায় না।”
নন্দীগ্রামের এই পালটা মিছিল দেখে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, জমি আন্দোলনের ভূমিতে এবার কে শেষ হাসি হাসবে? প্রথম দুদিনের মিছিলেই যে ঝড় উঠেছে, তাতে সন্দেহ নেই।




















