জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীরের হান্দওয়ারা এলাকায় আজ সকাল থেকে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা ঘটেছে। (Red Fort blast)ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-এর টিম গুলুরা এলাকায় একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েছে। এই অভিযান চলছে দিল্লির লাল কেল্লা এলাকায় গত বছরের নভেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে। সূত্রের খবর, এনআইএ-র আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখছেন।
অভিযান এখনও চলছে, এবং এর ফলাফল কী হয় তা এখনই বলা যাচ্ছে না।যাঁর বাড়িতে এই তল্লাশি চলছে, তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন ব্যবসায়ী। গুলুরা এলাকাটি হান্দওয়ারার একটি শান্ত গ্রামীণ অংশ, যেখানে সাধারণত এ ধরনের ঘটনা খুব কমই ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই বেশ কয়েকটি গাড়ি নিয়ে এনআইএ-র টিম এসে পৌঁছেছে এবং বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলেছে। পুলিশও সঙ্গে রয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়।
আরও দেখুনঃ অশান্ত শেয়ার বাজার! দেশে কমছে সোনার দাম
ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যরা বাইরে অপেক্ষা করছেন, তাদের মুখে উদ্বেগ আর অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া সেই ভয়ঙ্কর গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণ প্রত্যেকেরই স্মৃতিতে রয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছ’টা নাগাদ একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়ি লাল কেল্লার কাছে একটি ব্যস্ত ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে অন্তত ১২-১৫ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান এবং ৩০-এর বেশি আহত হন।
গাড়ির চালক নিজেই ছিলেন আত্মঘাতী হামলাকারী, যার নাম উমর উন নবী বা ড. উমর নবী। তিনি পেশায় একজন ডাক্তার ছিলেন এবং হরিয়ানার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন।এই ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মামলাটি এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। এনআইএ তদন্ত শুরু করার পর থেকেই একের পর এক গ্রেফতারি ও তল্লাশির ঘটনা ঘটছে।
এখনও পর্যন্ত ১১ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের মধ্যে অ্যানসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিএইচ)-এর ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সহযোগী রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই হামলার পিছনে একটি ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ কাজ করেছে, যেখানে শিক্ষিত, পেশাদার মানুষজন জড়িত ছিলেন।
এনআইএ-র তদন্তকারীরা বলছেন, হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহ, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে বিস্ফোরক সংগ্রহ সবকিছুতেই একাধিক স্তরের সহযোগিতা ছিল। কাশ্মীর উপত্যকায় একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়েছে শোপিয়ান, পুলওয়ামা, গান্দেরবাল, শ্রীনগরসহ বিভিন্ন জায়গায়। গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। এখন হান্দওয়ারার এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চলছে, যা দেখে মনে হচ্ছে তদন্ত আরও গভীরে যাচ্ছে। সম্ভবত এই ব্যক্তির সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেন, অস্ত্র সরবরাহ বা অন্য কোনও সহায়তার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।



