নয়াদিল্লি, ২২ মার্চ: ভারতের দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রজেক্ট কুশা’ (Project Kusha) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এর প্রাথমিক উন্নয়ন পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল)-ও এই প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করছে।
প্রজেক্ট কুশা, যা এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ERADS) নামেও পরিচিত, এর উদ্দেশ্য হলো ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও শহরগুলোকে আকাশপথে হুমকি থেকে রক্ষা করা। এটির যুদ্ধবিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশবাহিত ব্যবস্থার মতো হুমকি প্রতিহত করার সক্ষমতা থাকবে।
প্রজেক্ট কুশা কী?
এই সিস্টেমে তিন ধরনের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল থাকবে। প্রথমটি, এম১ মিসাইল, যা প্রায় ১০০-১৫০ কিলোমিটার পাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি এম২ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা হবে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এবং এটি মাঝারি পাল্লার হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে। আরও শক্তিশালী এম৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩৫০-৪০০ কিলোমিটার পাল্লায় বোমারু বিমান এবং নজরদারি বিমানের মতো শত্রুর বড় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
এই প্রকল্পে কারা কাজ করছে?
ডিআরডিও এই প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শীঘ্রই এম১ ক্ষেপণাস্ত্রের উড্ডয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর এর অন্যান্য সংস্করণগুলোর কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। ভারতীয় বিমান বাহিনীও এই সিস্টেমটির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে এবং অনুমোদন দিয়েছে।
এটি কখন মোতায়েন করা হবে?
এই ব্যবস্থাটি ভারতের বহুস্তরীয় বায়ু প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার একটি অংশ, যেখানে দেশকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন পাল্লার ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করবে। আগামী বছরগুলোতে এর প্রাথমিক মোতায়েন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। কুশা প্রকল্প ভারতকে বিমান হামলার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঢাল প্রদান করবে।




















